Durga Puja 2025: নবরাত্রির নিরামিষ নয়, দুর্গা পুজোয় বাঙালি মেতে ওঠে মাছ, মাংসের হরেক পদের খাবারে, পুজোয় বাঙালি কেন আমিষ খায় জানেন?

নবরাত্রিতে নিরামিষ খাবার (পেঁয়াজ, রসুনও বাদ) খেয়ে দিন কাটান দেশের বহু মানুষ। অন্যদিকে বাঙালি বেছে নেয় মাছ, মাংসের মত পদ। বাঙালির সংস্কৃতি উত্তর ভারতীয়দের তুলনায় একেবারে পৃথক, তাই খাদ্যাভাষও আলাদা।

Durga Puja 2025: নবরাত্রির নিরামিষ নয়, দুর্গা পুজোয় বাঙালি মেতে ওঠে মাছ, মাংসের হরেক পদের খাবারে, পুজোয় বাঙালি কেন আমিষ খায় জানেন?
Durga Puja (Photo Credit: FB)

Durga Puja 2025: বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গা পুজো (Durga Puja 2025)। পুজোর ৫ দিন বাঙালি (Bengalis) মেতে ওঠে, গোটা বছরের সমস্ত দুঃখ, কষ্টকে দূরে সরিয়ে রেখে। দুর্গা পুজো মানেই বাঙালির আবেগ। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত বাঙালি নিজেদের যেমন নিত্য নতুন পোশাকে সাজিয়ে তোলে, তেমনি খাবারের বাহার থাকে প্রত্যেক ঘরে। দুর্গা পুজোর রং, রূপ সবকিছু আলাদা। তাই গোটা দেশের যে কোনও উৎসবের তুলনায় দুর্গা পুজো যে একেবারে পৃথক, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পুজোর দিনগুলিতে বাঙালির পাতে পড়ে হরেক মাছ, মাংস, মিষ্টি। সকাল, বিকেল নিত্য নতুন খাবার উদরস্ত করে বাঙালি।

ষষ্ঠী অর্থাৎ বোধনের দিন থেকে বাঙালির পাত পেড়ে খাওয়া শুরু হয়। ইলিশ, কাতলা, পাবদা, চিতল, চিংড়ির পাশাপাশি থাকে খাসির মাংস। মুরগি তো থাকেই, তবে পুজোর কটাদিন বাঙালি যেন পাঁঠার মাংসে অনুরক্ত হয়ে পড়ে। মাছের কচুরি থেকে, পাঁঠার মাংসের কষা কিংবা হলুদ পোলাও, লুচি, নানা রকম মিষ্টি, কোনও কিছু বাদ যায় না। সেই সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে রাস্তা কিংবা রেস্তোরাঁর খাবারদাবার তো রয়েছেই।

গোটা দেশ যখন নবরাত্রি উপলক্ষ্যে পেঁয়াজ, রসুন ছাড়া সাত্ত্বিক খাবার খেতে শুরু করে, বাঙালি তখন পুজোর ৫ দিন জমিয়ে মাছ, মাংস খায়। কিন্তু কেন বাঙালিদের খাবার একেবারে আলাদা শক্তি আরাধনার সময়। দুর্গা পুজোয় বাঙালি নিরামিষ দূরে সরিয়ে কেন আমিষকেই বেছে নেয় জানেন?

আরও পড়ুন: Durga Puja 2025: ষষ্ঠী থেকে দশমী, দুর্গা পুজোয় কোন দিন কোন রীতি রয়েছে, কীভাবে শক্তি আরাধনায় মেতে ওঠে বাঙালি

বাংলার সংস্কৃতি পৃথক 

নবরাত্রিতে নিরামিষ খাবার (পেঁয়াজ, রসুনও বাদ) খেয়ে দিন কাটান দেশের বহু মানুষ। অন্যদিকে বাঙালি বেছে নেয় মাছ, মাংসের মত পদ। বাঙালির সংস্কৃতি উত্তর ভারতীয়দের তুলনায় একেবারে পৃথক, তাই খাদ্যাভাষও আলাদা। দুর্গা পুজো মানে উমার তাঁর বাবার ঘরে আগমণ। দুর্গাকে যেহেতু আপন কন্যা রূপে পুজো করে বাঙালি, তাই মেয়ের জন্য মাছ, মাসের নানা পদ রান্না হয় বাবা-মায়ের ঘরে। সেই ধারণা থেকেই দুর্গা পুজোয় বাঙালির পাতে পড়ে হরেক রকমের আমিষ পদ (বহু ভিন্ন মতও রয়েছে)।

ভৌগলিক এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব 

বাঙালির খাবারের অভ্যেস বরাবর নদী কেন্দ্রিক। নদীর চারপাশ থেকে বাঙালির বসবাস। তাই বাংলার খাবারে মাছের আধিক্য সেই পুরাকাল থেকে। সেই সঙ্গে নানা গৃহপালিত পশু আগে দেখা যেত বাংলার ঘরে ঘরে। তাই মাছের পাশাপাশি নির্দিদ্ধায় বাঙালি আমিষ খাবারকে গ্রহণ করেছে যুগ যুগ ধরে। সেই সঙ্গে বাঙালি শাক্ত মতে বিশ্বাসী (ভিন্ন মত এবং মতাদর্শও রয়েছে)। তাই দুর্গা হোক কিংবা কালী পুজো, বাঙালি বাড়ির পুজোয় পাঁঠা বলি দিয়ে মাংস রান্না করে খাওয়ার রীতি বহু যুগ ধরে।

তবে বেশ কিছু বাড়ির পুজো অথবা বারোয়ারি পুজোয় ৫ দিন ধরে নিরামিষ ভোগ খাওয়ানো হয়। আমিষ পুজোর রীতি থাকলেও, বেশ কিছু জায়গায় নিরামিষ খাবারের রীতিও রয়েছে বাঙালির মধ্যে এই শারদ উৎসবে।

(The above story first appeared on LatestLY on Sep 24, 2025 01:34 PM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).