Durga Puja 2021: ঘরের মেয়ে উমার আগমণে দুর্গোৎসবের সূচনা, ষষ্ঠী থেকে দশমী, জেনে নিন পুজোর মাহাত্ম্য
Durga Puja (Photo Credit: Twitter)

হাতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তারপরই শুরু হবে বাঙালির প্রাণের পুজো (Durga Puja)। করোনাকালে পুজো কেমন হবে, তা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কড়াকড়ি থাকলেও, বাঙালি উৎসবে কিছুটা ভাটা পড়লেও, আনন্দে মাতোয়ারা সবাই। এবার দেবী আসছেন ঘোটকে। যাচ্ছেন দোলায়। ঘোটকে আগমণের অর্থ যুদ্ধ, হানাহানির মতো ঘটনা। দোলায় গমন মানে মড়ক। সুতরাং এবারে দেবীর আগমণ এবং গমন নিয়েও এবার বাঙালির মধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: Durga Puja 2021: দুর্গাপুজোর বাকি আর ক'টা দিন, জেনে নিন পুজোর নির্ঘণ্ট

মহালয়া (Mahalaya)...

আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়া। ওইদিন পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনা। আশ্বিনের শারদ প্রাতে দিয়ে, তপর্ণের মাধ্যমে মহালয়ার ভোর শুরু হয় বাঙালির। ওইদিন যেমন দেবী পক্ষের সূচনা হয়, তেমনি চক্ষুদান করা হয় দুর্গার। শিউলি ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা ভোরে এবারও তাই বাঙালি দেবীপক্ষের সূচনা নিয়ে আবেগপ্লু ত।

ষষ্ঠী ( Shashthi) ...

মহালয়ার ৫দিন পর অর্থাৎ ১১ অক্টোবর মহাষষ্ঠী। ষষ্ঠীর দিন দেবীর বোধন। সকাল বোধন শেষ হলে, সন্ধ্যায় আমন্ত্রণ ও অধিবাসের অনুষ্ঠান।

সপ্তমী (Maha Saptami) ...

বোধনের পরদিন সপ্তমী। ওইদিন সূর্য ওঠার আগে নবপত্রিকা স্নান করানো হয় গঙ্গায় কিংবা কোনও জলাশয়ে। সপ্তমীতে কলা গাছের সঙ্গে আরও ৮টি পাতা একসঙ্গে বেধে দেওয়া হয়। নবপত্রিকা স্নানের পর তাঁকে নতুুন শাড়ি পরানো হয়। নবপত্রিকা স্নানের পর তাঁকে লাল পাড়, সাদা শাড়ি পরানো হয়। নবপত্রিকার স্নানের পর তাঁকে দুর্গা মঞ্চে প্রতিস্থাপন করে শুরু হয় ওইদিনের পুজো।

অষ্টমী (Maha Ashtami) ...

সপ্তমীর পরদিন মহাষ্টমী। ওইদিন দুর্গা পুজোয় বিশেষ অঞ্জলির ব্যবস্থা করা হয়। বাঙালি জীবনে অষ্টমীর মাহাত্ম্য একেবারে অন্যরকম। অষ্টমীর অঞ্জলির পাশাপাশি ওইদিন কুমারী পুজোর চল রয়েছে বহু জায়গায়। বিশেষ করে বেলুড় মঠে।

নবমী (Maha Navami)...

নবমী পুজোরও পৃথক মাহাত্ম্য রয়েছে। মহানবমীতে বলি প্রথা রয়েছে বহু জায়গায়। বর্তমানে বহু জায়গায় পশু বলি প্রথা তুলে দেওয়া হয়েছে। ছাগের পরিবর্তে অনেক জায়গায় লাউ, চালকুমরো দিয়ে বলি দেওয়া হয়। নবমীতে সকালের পুজোর পর সন্ধ্যায় সন্ধি পুজোর আয়োজন করা হয়। এদিন ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানো হয়।

দশমী (Dashami)...

দশমীতে পাঁচদিনের উৎসবের ছন্দে ছেদ পড়ে। ওইদিন কোথাও কোথাও বনেদি বাড়িতে পান্তাভাত, ইলিশ মাছ, কঁচু শাকের টক খাইয়ে উমাকে কৈলাশে ফেরৎ পাঠানো হয়। সিঁদূর পরিয়ে, মিষ্টি মুখ করিয়ে, পরের বছরের জন্য ফের আমন্ত্রণ জানিয়ে বিদায় জানানো হয় উমাকে। ওইদিন সিদূঁর খেলায় মেতে ওঠেন মহিলারা। উমা গমণের আগে অনেক জায়গায় যাত্রা মঙ্গল পরানো হয়। দধিমঙ্গলও সম্পন্ন করা হয়। এইসব রীতিকেই শুদ্ধাচারে সম্পন্ন করা হয় হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী।