Bhai Dooj 2023 Date: এই বছর কবে পালিত হবে ভাইফোঁটা? উত্‍সবের সঙ্গে প্রচলিত নানান পৌরাণিক কাহিনী রইল আপনাদের জন্য

কথিত রয়েছে, ধনত্রয়োদশীর পরের দিন চতুর্দশী তিথিতে নরকাসুরকে বধ করেন কৃষ্ণ। তারপর দ্বারকায় ফিরে আসলে বোন সুভদ্রার আনন্দের সীমা থাকে না। কৃষ্ণের আদরের বোন হল সুভদ্রা। কৃষ্ণকে অনেকদিন পর দেখতে পেয়ে তার কপালে বিজয়তিলক পরিয়ে দেন।

Bhai Dooj 2023 Date: এই বছর কবে পালিত হবে ভাইফোঁটা? উত্‍সবের সঙ্গে প্রচলিত নানান পৌরাণিক কাহিনী রইল আপনাদের জন্য

পাঁচ-দিনব্যাপী দীপাবলি উৎসবের শেষ দিনে সারা দেশে পালিত হয় ভাই-বোনের পবিত্র উত্সব  ভাই-দুজ বা ভাইফোঁটা। ভাইফোঁটা বাঙালিদের এক চিরন্তন সম্প্রীতির উত্‍সব। হিন্দুদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই উত্‍সবটি ভ্রাতৃদ্বিতীয়া, কোথাও আবার যমদ্বিতীয়া নামে পরিচিত। বাঙালি হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে এই বিশেষ উত্‍সব পালন করা হয়। এই দিনে বোনেরা তাদের প্রিয় ভাইয়ের কপালে তিলক লাগায় এবং তার দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য প্রার্থনা করে।

পশ্চিম ভারতে এই উৎসব ভাইদুজ নামে পরিচিত। মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্ণাটকে ভাইফোঁটাকে বলে ভাইবিজ। নেপালে ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে বিজয়া দশমীর পর এই উৎসব পরিচিত ভাইটিকা নামেও পালন করা হয়।

২০২৩ সালের কবে পড়ছে ভাইফোঁটাঃ

কার্তিক মাসের শুক্লাপক্ষের দ্বিতীয়ার দিনে ভাইফোঁটা পালিত হয়। বাংলা পঞ্জিকা মতে, এ বছর ভাই ফোঁটা পড়েছে ১৫ নভেম্বর, বুধবার অর্থাৎ ২৮ কার্তিক দুপুর ১টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত থাকবে ভাইফোঁটা দেওয়ার সময়। এর মধ্যেই কখনও দেওয়া যাবে ফোঁটা।

ভাইফোঁটার পৌরাণিক কাহিনীঃ-

কথিত আছে, সূর্য ও তার পত্নী সংজ্ঞার যমুনা নামে কন্যা ও যম নামে এক পুত্র ছিল। পুত্র ও কন্যাসন্তানের জন্মদানের পর সূর্যের উত্তাপ স্ত্রী সহ্য করতে না পেরে প্রতিলিপি ছায়ার কাছে রেখে চলে যায় সংজ্ঞার প্রতিরূপ হওয়াই কেউ ছায়াকে চিনতে পারেনা। কিন্তু ছায়ার কাছে ওই ২ সন্তান কখনও মায়ের মমতা, ভালবাসা পায়নি। দিনের পর দিন ধরে অত্যাচার করতে থাকে। অন্যদিকে সংজ্ঞার প্রতিলিপি ছায়াকে বুঝতে না পেরে সূর্যদেবও কোনও দিন কিছু বলেননি। ছায়ার ছলে স্বর্গরাজ্য থেকে বিতারিত হন যমুনা। একসময় যমুনার বিয়েও হয়। বিয়ে হয়ে যমের থেকে অনেক দূরে সংসার করতেন যমুনা। দীর্ঘকাল ধরে দিদিকে না দেখতে পেয়ে মন কাঁদে যমের।মন শান্ত করতে একদিন দিদির বাড়ি চলে যায় যমরাজ। প্রিয় ভাইয়ের আগমনে হাসি ফোটে দিদির মুখেও।

দিদির আতিথেয়তা ও স্নেহে মুগ্ধ হয়ে ফেরত যাওয়ার সময় যম একটি বর চাইতে বলেন। তখন যমুনা বলে ছিলেন, এই দিনটি ভাইদের মঙ্গলকামনা চেয়ে প্রত্যেক বোন যেন ভ্রাতৃদ্বিতীয়া হিসেবে পালন করা হয়। সেই বর দান করে যম পিতৃগৃহে চলে যান। যমের মঙ্গলকামনায় এ দিনটি পালন করায় যমরাজ অমরত্ব লাভ করেন। এ কাহিনী থেকেই নাকি প্রতি বছরে কার্তিক মাসের এই বিশেষ তিথিতে পালন করা হয় ভ্রাতৃদ্বিতীয়া।

আরও এক পৌরাণিক কাহিনিতে বলা হয়েছে, একসময় বালির হাতে পাতালে বন্দি ছিলেন বিষ্ণু। সেইকারণে চরম বিপদের মুখে পড়লেন স্বর্গের সব দেবতারা। কোনও ভাবেই যখন বিষ্ণুকে উদ্ধার করা যাচ্ছে না, ঠিক সেই সময় লক্ষ্মীর উপর সকলে ভরসা করতে শুরু করেন। নারায়ণকে উদ্ধার করা জন্য় লক্ষমী বালিকে ভাই পাতিয়ে ফেলেন। তাকে ফোঁটাও দেন লক্ষ্মী। সেই দিনটি ছিল কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয় তিথি। ফোঁটা পেয়ে লক্ষ্মীকে উপহার দিতে চাইলে লক্ষ্মী তখন বিষ্ণুর মুক্তি চেয়ে উপহার চেয়ে নেন।

ভাইফোঁটা নিয়ে কৃষ্ণ ও সুভদ্রার উপাখ্যানও শোনা যায়। কথিত রয়েছে, ধনত্রয়োদশীর পরের দিন চতুর্দশী তিথিতে নরকাসুরকে বধ করেন কৃষ্ণ। তারপর দ্বারকায় ফিরে আসলে বোন সুভদ্রার আনন্দের সীমা থাকে না। কৃষ্ণের আদরের বোন হল সুভদ্রা। কৃষ্ণকে অনেকদিন পর দেখতে পেয়ে তার কপালে বিজয়তিলক পরিয়ে দেন। কপালে ফোঁটা দিয়ে দাদাকে মিষ্টিও খেতে দেন। সেই থেকে নাকি ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে ভাইফোঁটা উত্‍সব পালন করা হয়।

আরও একটি কাহিনি আছে। চতুর্দশ শতাব্দীর পুথি অনুসারে, জৈন ধর্মের অন্যতম প্রচারক মহাবীর বর্ধমানের মহাপ্রয়াণের পরে তাঁর অন্যতম সঙ্গী রাজা নন্দীবর্ধন মানসিক এবং শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেই সময়ে তাঁর বোন অনসূয়া নন্দীবর্ধনকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে। সেখানে অনেক প্রার্থনার পরে নন্দীবর্ধন বোনের কাছে অনশন ভঙ্গ করেন। এই কাহিনি সত্যি হলে ভাইফোঁটা উৎসবের বয়স আড়াই হাজার বছরের বেশি। কারণ, মহাবীরের প্রয়াণে হয়েছিলেন ৫২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।

 

 

(The above story first appeared on LatestLY on Nov 02, 2023 01:40 PM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).