Aja Ekadashi: ভগবান বিষ্ণুকে স্মরণ করুন। তাঁর পুজো করুন। নির্জলা উপবাস থেকে বিষ্ণুর পুজো করুন। তাঁর আশীর্বাদ-ধন্য হলে, জীবন থেকে সমস্ত দুঃখ, কষ্ট বিদায় নেবে। জীবন সুখ শান্তিতে ভরে উঠবে। ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ লাভ করতে পালন করুন আজা একাদশী। এই আজা একাদশী ব্রত কথার মাধ্যমে আপনি ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ পেতে পারেন। তাঁর আশীর্বাদ ধন্য হতে পারেন।
১৯ অগাস্ট পালন করা হবে আজা একাদশী (Aja Ekadashi 2025) ব্রত কথা। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষ একাদশী তিথি অনুযায়ী এই আজা একাদশীর ব্রত কথা পালন করা হয়।
আজা একাদশীর ব্রত কথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক শক্তিশালী পৌরাণিক কাহিনী। জানা যায়, আজা একাদশী ব্রত পালন করলে বিষ্ণুর আশীর্বাদ লাভ হয়। ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ যদি জীবনে নেমে আসে, তাহলে পাপ মুক্তি যেমন সম্ভব হয়। তেমনি মোক্ষ লাভের পথ সুগম হয়। এই ব্রতের মাধ্যমে মনের শুদ্ধিকরণ করা হয়। সেই সঙ্গে আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ সম্ভব হয়। পদ্মপুরাণে এই একাদশীর মাহাত্ম্যের বর্ণনা রয়েছে।
কীভাবে পালন করবেন এই আজা একাদশী
এইদিন উপবাস করুন শুদ্ধ মনে। একেবারে নির্জলা থাকতে না পারলে, জল, ফল, দুধ খেয়ে দিন কাটান।
সকালে স্নান সেরে বিষ্ণুর পুজো করুন। কাছাকাছি মন্দির থাকলে সেখানে যান। না হলে ঘরেই পুজো সম্পন্ন করুন। এরপর তুলসী মঞ্চে ধূপ, দীপ জ্বেলে দিন। ভক্তিভরে তুলসী পুজো করুন।
পুজোর সময় ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায় নম মন্ত্র উচ্চারণ করুন।
পুজো শেষ হওয়ার পর যদি সম্ভব হয়, তাহলে গরীব মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিন। তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দান করুন।
রাজা হরিশচন্দ্রের গল্প জড়িয়ে আজা একাদশীর সঙ্গে
ঋষি বিশ্বামিত্রর কাছে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে রাজা হরিশচন্দ্র নিজের জীবনের সর্বস্য ত্যাগ করেছিলেন। নিজের স্ত্রী, পুত্রকেও ত্যাগ করেন রাজা। কীভাবে বিশ্বামিত্রের মন জয় করবেন, পূণ্য অর্জন করবেন, তার জন্যই জীবনকে কঠিন থেকে কঠিনতর করে তোলেন হরিশচন্দ্র। এরপর ঋষির বিধানে রাজা আজা একাদশীর ব্রত কথা পালন করেন। ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ লাভের জন্য পালন করেন আজা একাদশী।
এরপর ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদে রাজা হরিশচন্দ্র তাঁর হারানো রাজ্য, স্ত্রী, পুত্র সবাইকে ফিরে পান।
রাজা হরিশচন্দ্রের এই আত্মত্যাগ এবং আজা একাদশী ব্রত কথা পালন মনে করিয়ে দেয়, এই দিনের তাৎপর্য। ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ পেতে, জীবন থেকে দুঃখ, কষ্ট তাড়াতে পালন করুন এই আজা একাদশীর ব্রত কথা।