Credit: Twitter or X

মুম্বই, ১ অগাস্ট: এবার মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) নাগপুর (Nagpur) পুলিশের জালে লুটেরি দুলহান। ৮বার বিয়ে করে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এক মহিলা। ৮বার বিয়ের পর ৯বার যখন তিনি ৯বারের জন্য তোড়জোড় শুরু করেন, সেই সময় ধরা পড়েন তিনি। ৯বার বিয়ের সময় ওই মহিলা যখন ধরা পড়েন, তা কাণ্ডকারখানা শুনে পুলিশের চোখ কপালে ওঠে।

ধৃতের নাম সমীরা ফাতিমা। পরের শিকারের সময় যেতে গিয়েই ওই মহিলা পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। পুলিশ সূত্রে খবর, নবম শিকার ধরার জন্য ওই মহিলা যখন মিটিং করছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে, তখনই তিনি ধরা পড়েন।

পুলিশের (Police) কথায়,  বিয়ে করে সেক্সের পর থেকে স্বামীদের ব্ল্যাকমেইল করতেন ওই মহিলা। তারপর সেই সমস্ত স্বামীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তিনি হাতিয়ে নিতেন। পুলিশ ওই লুটেরি দুলহনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। শুরু হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত। টাকা ছাড়াও ওই মহিলার কোথায়, কোন সম্পত্তি রয়েছে, সে বিষয়েও পুলিশের তরফে খোঁজ শুরু হয়েছে।

এসবের পাশাপাশি পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, সমীরা ফাতিমা নামে  ওই মহিলা একটি গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত।  ওই গ্যাংয়ের নির্দেশেই বিভিন্ন সময় তিনি বিয়ে করে, তথাকথিত স্বামীদের লুটেপুটে নিতে শুরু করেন।

তবে এই সমীরা ফাতিমা কোনও অশিক্ষিত মহিলা নন। পেশায় শিক্ষিকা সমীরা ভাল মত পড়াশোনা করে তবেই এই গ্যাংয়ের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন এবং পরপর বিয়ে করে লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাট শুরু করেন।

পুলিশের সন্দেহ, গত ১৫ বছর ধরে সমারা ফাতিমা এই ধরনের লুটপাট চালাচ্ছিলেন। তাঁর নিশানায় সব সময় বিবাহিত পুরুষরা থাকতেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের যে বিবাহিত পুরুষের পকেটে মোটা টাকা থাকত, তাঁদেরই নিশানা করতেন সমীরা ফাতিমা। ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ কলের মাধ্যমে এই সমস্ত মুসলিম বিবাহিত পুরুষদের সমীরা ফাঁসাতেন। নিজের জীবনের মিথ্যে লড়াইয়ের গল্প শোনাতেন। তারপরই ওই পুরুষদের লুটেপুটে নিয়ে তাঁদের পকেট ফাঁকা করে দিতেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপের পাশাপাশি একাধিক ম্যাট্রিমনিয়াল সাইট ঘেঁটেও সমীরা ওই সমস্ত কুকীর্তি করতেন বলে খবর।

পরপর একাধিক বিয়ে করে বিভিন্ন পুরুষকে লুটেপুটে নেওয়ার পর সমীরা ফাতিমার খোঁজ পায় পুলিশ। অবশেষে মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় এই সমীরা ফাতিমাকে।