Mahakumbh (Photo Credits: ANI)

নয়া দিল্লি, ২৮ ফেব্রুয়ারিঃ মহাশিবরাত্রির দিন (Mahashivratri 2025) শেষ হয়েছে প্রয়াগরাজে চলমান মহাকুম্ভের মেলা। টানা ৪৫ দিন ব্যাপী চলেছিল কুম্ভ। ১৪৪ বছর পর আসা মহাকুম্ভে প্রায় ৬৬ কোটি পুণ্যার্থী ডুব দিয়েছেন। বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতীর সঙ্গমস্থলে ডুব দিতে দেশ বিদেশের নানাপ্রান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে এসেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার দ্বিগুণ তীর্থযাত্রী এসেছিলেন মহাকুম্ভের মেলায়। শেষদিন অর্থাৎ শিবরাত্রীর দিন অমৃত স্নানেও বিপুল ভক্ত সমাগম ঘটেছিল। মনে করা হয়, অমৃত স্নানের মুহূর্তে সঙ্গমে ডুব দিলে বহু জন্মের পাপ ধুয়ে যায়। মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়। তাই শাহী স্নানের দিনগুলোতে ভক্তের ঢল নামত বহুগুণ বেশি। তার জেরেই মৌনী অমাবস্যায় পুণ্য়স্নানে এসে প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্ততপক্ষে ৩০ জন পুণ্যার্থী (সরকারি সূত্র)।

২০২৫ সালের কুম্ভমেলা ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ১৪৪ বছর পর এসেছিল মহাকুম্ভের এই যোগ। আবার ১৪৪ বছর পর আসবে এই যোগ। তবে তার আগে বহু কুম্ভ আয়োজিত হবে।

পরবর্তী কুম্ভ মেলা কোথায় এবং কখন?

পরবর্তী কুম্ভ মেলা ২০২৭ সালে মহারাষ্ট্রের নাসিকে (Nashik) অনুষ্ঠিত হবে। যা নাসিক থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দূরে ত্র্যম্বকেশ্বরে আয়োজিত হবে। নাসিকের কুম্ভটি হতে চলছে অর্ধকুম্ভ। ভারতের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী গোদাবরী নদীর তীরে অবস্থিত নাসিক শহরটি। এটি বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একটি। জানা যাচ্ছে, ২০২৭ সালের কুম্ভমেলা ১৭ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, নাসিক এবং উজ্জয়িনী - এই চারটি শহরে কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতি চার বছরে অনুষ্ঠিত মেলাকে কুম্ভমেলা বলা হয়। অন্যদিকে প্রতি ছয় বছরে অনুষ্ঠিত মেলাকে অর্ধকুম্ভমেলা বলা হয়। প্রতি ১২ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত মেলাকে পূর্ণ কুম্ভমেলা বলা হয়। আর ১২টি পূর্ণ কুম্ভের পর অর্থাৎ ১৪৪ বছর পর একটি মহাকুম্ভ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী মহাকুম্ভ আয়জিত হবে ২১৬৯ সালে।