পশ্চিমবঙ্গে বিদায় নিতে চলা মার্চের শেষলগ্নে আবহাওয়ার বড়সড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD)। শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬-এর জন্য রাজ্যজুড়ে ‘কমলা সতর্কতা’ (Orange Alert) জারি করা হয়েছে। সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
কোন কোন শহরে বৃষ্টির সম্ভাবনা?
আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, আজ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে বৃষ্টির দাপট সবচেয়ে বেশি থাকবে। হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আজ যে শহর ও জেলাগুলোতে বৃষ্টি হতে পারে:
উত্তরবঙ্গ: দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার। এই পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গ: কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রাম। পশ্চিমের জেলাগুলোতে বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ৩০-৫০ কিমি হতে পারে।
ঝঞ্ঝার প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে একটি শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা উত্তর-পশ্চিম ভারতে অবস্থান করছে, যা পূর্ব ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প যুক্ত হয়ে রাজ্যে বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতা তৈরি করেছে। ফলে প্রাক-বর্ষার এই বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের সতর্কতা
বৃষ্টির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের মালদহ ও দুই দিনাজপুর এবং দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টির (Hailstorm) আশঙ্কা রয়েছে। বজ্রপাতের সময় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। কৃষকদেরও এই সময়ে খোলা মাঠে কাজ না করার এবং শস্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামীকালের আবহাওয়ার আপডেট (২৮ মার্চ)
আগামীকাল, ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখেও আবহাওয়ার বিশেষ উন্নতির সম্ভাবনা নেই। উত্তরবঙ্গের ওপরের পাঁচটি জেলায় বৃষ্টির দাপট জারি থাকবে। তবে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। রোববারের পর থেকে আকাশ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রার পারদ খুব একটা বাড়বে না বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।