লখনউ, ১৮ জুলাইঃ যৌতুকের (Dowry) জন্য নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মঘাতী (Suicide) হলেন এক মহিলা। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) বাগপত জেলায় বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন মনীষা নামের এক মহিলা। মৃত্যুর আগে নিজের শরীরে সুইসাইড নোট লিখেছেন তিনি। মৃতদেহের উপর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মহিলা। এমন সুইসাইড নোট দেখে হতবাক পুলিশ।
জানা যাচ্ছে, ২০২৩ সালে নয়ডার দাদরি এলাকার বাসিন্দা কুন্দনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মনীষা। বিয়ের পর প্রথম প্রথম দম্পতির জীবন বেশ সুখেই কাটছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। নিহত মহিলার ভাই হার্দিক জানান, বিয়েতে যৌতুক হিসাবে মেয়ের বাড়ি থেকে একটি বুলেট মোটরসাইকেল পাত্রকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে মন ভরেনি পাত্রপক্ষের। বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই কুন্দন এবং তাঁর পরিবার একটি এসইউভি (SUV) গাড়ির জন্যে মনীষার বাড়ির লোকের উপর জোর দেয়। হার্দিকের অভিযোগ, তাঁদের সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় তাঁরা মনীষার উপর শারীরিক এবং মানসিকভাবে অত্যাচার শুরু করে।
যৌতুকের জন্যে নির্যাতন
স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০২৪ সালে বাপের বাড়িতে চলে আসেন মনীষা। কিন্তু তাতেও থেমে যায়নি অত্যাচার। সম্প্রতি মনীষার স্বামী কুন্দন এবং শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন মিলে গ্রাম পঞ্চায়েতের কিছু সদস্য নিয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হন। বিবাহবিচ্ছেদের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন মনীষাকে। কিন্তু তাঁদের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। এরপর শ্বশুরবাড়ির হুমকি আরও বেড়ে যায়।
মৃতদেহে লেখা সুইসাইড নোট
শ্বশুরবাড়ির হুমকি, অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ মঙ্গলবার রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়ে কীটনাশক খান মনীষা। বুধবার সকালে তাঁকে মৃত অবস্থায় বাড়ির বারান্দায় পাওয়া যায়। নিজের হাতে, পায়ে সুইসাইড নোট লিখে যান তিনি। মনীষা লেখেন, শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে দিনের পর দিন ক্ষুধার্ত রাখা হত। মারধর করা হত। ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হত। অত্যাচারের কথা প্রকাশ করলে খুন করার হুমকি দিয়েছিলেন স্বামী কুন্দন।