Narendra Modi, Donald Trump (Photo Credit: File Photo)

Indian students Visa Decline: মার্কিন মুলুকে দুনিয়া সেরা শিক্ষা নেওয়ার স্বপ্ন দেখে বহু ভারতীয় পড়ুয়া। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) চোখ রাঙানিতে সেই স্বপ্ন ভুলছেন ভারতীয়রা। আমেরিকায় পড়তে যাওয়ার স্বপ্নে বড় ধাক্কা ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের। চলতি বছর অগাস্টে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য নতুন F-1 'স্টুডেন্ট ভিসা'(ছাত্রছাত্রীদের জন্য ভিসা) অনুমোদন কমেছে প্রায় ৪৪.৫ শতাংশ। যা গত বছরের তুলনায় এক ভয়াবহ পতন বলে জানাল মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ২০২৪ সালের অগস্টে যেখানে ভারতীয় পড়ুয়াদের জন্য ৭৪,৮২৫টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল আমেরিকায়, সেখানে চলতি বছর সেটা নেমে হয়েছে মাত্র ৪১ হাজার ৫৪০টি। চলতি অর্থবর্ষে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের ভিসা প্রত্য়াখানের হার দাঁড়িয়েছে ৪১ শতাংশ। যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের সংখ্য়া কমানো নিয়ে চাপ দিয়ে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যত জেহাদ ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ভারতের পাশাপাশি চিনের পড়ুয়াদের ওপরেও কোপ ট্রাম্পের

অগস্ট ২০২৫-এ ট্রাম্প প্রশাসন মোট ৩ লক্ষ ১৩ হাজার ১৩৮টি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ভিসার অনুমোদন দিয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ কম। এর প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়াতেও। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৩.৩ লক্ষাধিক ভারতীয় ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছিলেন। কিন্তু এবার সেই প্রবণতা পুরোপুরি বদলে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন বা ইমিগ্রেশন নীতিই এই পতনের অন্যতম কারণ। শুধু ভারতীয় নয়, চিনা ছাত্রছাত্রীদের মার্কিন ভিসাও কমেছে ১২ শতাংশ। ২০২৩-২৪ সালে চিন থেকে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২.৭৭ লক্ষ। যা ২০১৯ সালের সর্বোচ্চ সংখ্যা (৩.৭ লক্ষ) থেকে অনেক কম। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির জেরে ভিসা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়েছে। নতুন আবেদন ফি, দীর্ঘ ইন্টারভিউ, এমনকি আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও যাচাই পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দেখুন খবরটি

আসলে ক্ষতি আমেরিকার!

শুধু ভারত বা চিন নয়, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইরান সব দেশেই ছাত্রভিসা ইস্যু কমেছে ১০ থেকে ৮৬ শতাংশ পর্যন্ত। আমেরিকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মতে, বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা বিশেষত STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) ক্ষেত্রে গবেষণার মেরুদণ্ড। এদের সংখ্যা কমলে, ভবিষ্যতের উদ্ভাবন ও গবেষণার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা যদি চলতে থাকে, তবে আমেরিকার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক আকর্ষণ কমে যেতে পারে। আর সেই জায়গা দখল করতে পারে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপের দেশগুলো।