UP Snakebite: উত্তরপ্রদেশের হাথরাস জেলার অন্ধবিশ্বাসের এক ঘটনায় চমকে উঠল দেশ। হাথরাসের ইতারনি গ্রামে ১০ বছরের এক কিশোরকে সাপের কামড়ায়। দশ বছরের ছেলেটি তার বাড়ির উঠোনে খেলার সময় বিষাক্ত সাপে কামড়েছিল। কিন্তু তাকে হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে পরিবার ভরসা রাখে ওঝা-তান্ত্রিকের উপর। কিশোরটি সাপের বিষে অচেতন হয়ে পড়তেই পরিবার স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যায়। ওঝা মন্ত্রপাঠ ও ভেষজ ওষুধে বিষ কাটানোর চেষ্টা করে। পরিবার বিশ্বাস করে, ছেলেটি আসলে মারা যায়নি, 'অচেতন জীবিত' অবস্থায় রয়েছে। গ্রামের বয়স্ক ও ওঝার পরামর্শে পরিবার ছেলেটির দেহ গরুর গোবর ও নিমপাতায় ঢেকে রাখে। বিশ্বাস ছিল, এভাবেই শরীর থেকে বিষ বেরিয়ে যাবে ও ছেলেটি আবার বেঁচে উঠবে। উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে এই ধরনের কুসংস্কার বহু পুরনো, যেখানে চিকিৎসার বদলে এই ধরনের 'লোকবিশ্বাস'-এ মানুষ নির্ভর করে।
তিন দিন ধরে মরদেহের পাশে বসে মন্ত্র পড়ে গিয়েছে পরিবারের সদস্য়রা
গত ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন শিশুটির দেহ বাড়ির পেছনে গোবরের স্তূপে নিমপাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। পরিবারের দাবি ছিল, "ঈশ্বর চাইলে ছেলেটা আবার বেঁচে ফিরে আসবে।"ছেলেটির বাবা রামপ্রসাদ (৪০) বলেন, “আমরা শুনেছি, আগে অনেকেই এইভাবে বেঁচে উঠেছে। হাসপাতালে নিলে ডাক্তাররা তো শুধু বলে দেয়,বাঁচানো যাবে না।” পাঁচজনের পরিবারের সদস্যরা তিন দিন ধরে দেহের পাশে বসে মন্ত্র পড়ে গিয়েছে।
দ্বিতীয় দিনের পর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে গ্রামবাসীরা পুলিশে খবর দেয়
প্রথমে কেউ কিছু বলেনি, কিন্তু দ্বিতীয় দিনের পর থেকেই আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পরিবার জানায়, এটি'ধর্মীয় আচার।'পরে আজ, সন্ধ্যায় হাসায়ন থানার সাব-ইনস্পেক্টর রাজেন্দ্র সিং-এর নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে ও ময়নাতদন্তে পাঠায়। হাথরাস জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ অমিত ভাটনাগর জানান, "সাপের কামড়ের ছয় ঘণ্টার মধ্যে যদি অ্যান্টিভেনম দেওয়া যায়, ৯০ শতাংশ রোগী বেঁচে যান। কুসংস্কারের জন্যই উত্তরপ্রদেশে প্রতিবছর ১০ হাজারেরও বেশি মৃত্যু হয়।" এর আগে ২০২১ সালে শাহজাহানপুরে দু’জন শিশু সাপের কামড়ে মারা যাওয়ার পর গোবরের মধ্যে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ২০২৪-এ বুলান্দশহরে এক ছাত্রের মৃতদেহ গঙ্গার উপর ঝুলিয়ে রাখা হয় পুনর্জীবনের আশায়।