এবার মৌলানার লালসার শিকার এক তরুণী শিক্ষার্থীর। মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে এসে তাঁকে লাগাতার ধর্ষণ করত অভিযুক্ত। এমনকী গর্ভবতী হয়ে গেলে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করত অভিযুক্তের স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মিরাটে (Meerut) লোহিয়ানগর এলাকায়। নির্যাতিতা প্রতিবেশীদের সাহায্যে বাড়ি থেকে পালিয়ে থানায় যায়। তারপর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে শুরু হয় তদন্ত। অন্যদিকে বিপদ বুঝে পালায় অভিযুক্ত। শুক্রবার তাঁকে ওই এলাকা থেকেই গ্রেফতার করা হয়। তবে তাঁর স্ত্রীর খোঁজে জারি রয়েছে তল্লাশি অভিযান।
ভুল বুঝিয়ে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ
জানা যাচ্ছে, বছর তিনেক আগে লোহিয়ানগরের একটি মাদ্রা্সায় অন্য জেলা থেকে পড়তে এসেছিলেন ওই তরুণী। থাকার জায়গার অভাবে মৌলানার থেকে ঘরের খোঁজার জন্য সাহায্য চায়। সে তাঁকে নিজের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেয়। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী আছে ফলে তাঁর কোনও অসুবিধা হবে না বলেও আশ্বস্ত করে। এরপর বাড়িতে ঢুকতেই বেরোয় তাঁর আসল রূপ। একটি ঘরে তাঁকে ঢুকি বন্দি রাখা হয় এবং লাগাতার ধর্ষঁণ করে অভিযুক্ত মৌলানা। এরমধ্যে সে গর্ভবতী হলে হাসপাতালে নিয়ে যেত অভিযুক্তের স্ত্রী। সেখানেই তাঁর গর্ভপাত করানো হত। এমনকী কাউকে কিছু বললে তাঁকে খুন করার হুমকিও দিত মৌলানা ও তাঁর স্ত্রী।
মারধর করা হয় নির্যাতিতাকে
এরমধ্যে একদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রতিবেশীদের সব জানায় নির্যাতিতা। কিন্তু তখন তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মৌলানা। এবং তাঁর চুল কেটে গ্রামে ঘোরায়। এরমধ্যে আরও দু’বার তাঁর গর্ভপাত করানো হয়। পরপর তিনবার হাসপাতাল থেকে বাড়ি আসায় গ্রামবাসী সন্দেহ হয়। আগামী ৮ জুলাই বাড়ি ফিরবে বলে লুকিয়ে স্টেশনে গিয়ে টিকিট কাটে সে। বাড়ি ফিরতেই তাঁকে ধরে মারধর করা হয় এবং টিকিট ছিঁড়ে ফেলা হয়।
নির্যাতিতা ভর্তি হাসপাতালে
চলতি সপ্তাহে মৌলানার বাড়ি থেকে তরুণীর চিৎকারের আওয়াজ শুনে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তারপর তাঁরাই ঘরে ঢুকতে সব সত্যি সামনে আসে। এরপর বাসিন্দারাই তাঁকে উদ্ধার করে লোহিয়ানগর থানায় নিয়ে যায়। সেখানে অভিযোগ দায়ের করলে শুরু হয় তদন্ত। আর তারপরই মৌলানা ও তাঁর স্ত্রীর খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। শুক্রবার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অন্যদিকে নির্যাতিতা ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।