বেঙ্গালুরু, ১৫ জুলাই: গোকর্ণ গুহা (Gokarna Cave) থেকে বের করে আনা হল এক রুশ মহিলাকে (Russian Woman)। দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ওই গোকর্ণ গুহায় বসবাস করছিলেন রাশিয়ার এক মহিলা। কী কারণে কর্ণাটকের (Karnataka) গোকর্ণ গুহায় দুই মেয়েকে নিয়ে ওই মহিলা বসবাস করছিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা তিনি বলছেন। নানা দাবি করছেন। তবে পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। নীনা কুটনিয়া নামের ওই রুশ মহিলা দাবি করেন, তাঁর পরিবার জঙ্গল, গুহায় বসবাস করতে পছন্দ করে। এর আগেও বেশ কয়েকটি দেশের গুহা জীবন তাঁরা কাটিয়েছেন বলে দাবি করেন নীনা কুটনিয়া। নীনার কথায়, প্রায় ২০টি দেশে তিনি থেকেছেন। এবং ওই ২০টি দেশের বিভিন্ন গুহায় তিনি পরিবার নিয়ে থেকেছেন বলে দাবি করেন রুশ মহিলা।
এ,বের পাশাপাশি নীনা আরও দাবি করেন, গুহায় থাকতে তাঁর বা পরিবারের কারও কোনও অসুবিধা হয় না। এসব জায়গায় থাকতে প্রকৃতির সঙ্গে তাঁরা আরও অনেক বেশি করে পরিচিত হতে পারেন। শুধু তাই নয়, এই সমস্ত জায়গায় থাকার জন্য বিপদ হতে পারে, এমন ধারনা নেই তাঁদের। তাঁরা নিরাপদে গুহা জীবন কাটাতে পারেন বলেও দাবি করেন সংশ্লিষ্ট রুশ মহিলা। জঙ্গলে নিয়ে এসে ছেলেমেয়েদের মেরে ফেলার কোনও ইচ্ছা তাঁর নেই। সন্তানরা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে বলেই তিনি তাঁদের নিয়ে পাহাড়, জঙ্গলে বসবাস করেন বলেও রুশ মহিলা পুলিশকে জানান।
সম্প্রতি নীনা কুটনিয়া নামে ওই রুশ মহিলার খবর প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ তাঁকে কর্ণাটকের গোকর্ণ গুহা থেকে খুঁজে বের করে। এরপর পুলিশের সামনে নীনা বলতে থাকেন, গুহা জীবন তাঁদের ভাল লাগে। তাঁরা মানুষের সঙ্গে থাকতে ভালবাসেন না। তাই গোকর্ণের ওই গুহা থেকে থেকে একটি গ্রামের দূরত্ব বেশ অনেকখানি। সেই গ্রাম থেকে দূরে সরেই তাঁরা শান্তিতে বসবাস করছেন। এমনকী এত সুন্দর জঙ্গলে তাঁদের জীবনের কোনও ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন না। তাই শান্তিতে, সুস্থিতিতে ওই গুহায় তাঁরা জীবন কাটাচ্ছিলেন বলে জাবি করেন রুশ মহিলা।
গোকর্ণের গুহা থেকে ওই রুশ মহিলাকে বেরিয়ে আসতে দেখে অবাক হয়ে যায় পুলিশ...
Russian woman living in cave with two daughters rescued; found overstaying visa since 2017
Read @ANI Story | https://t.co/EhiySCIBK7#Gokarna #Russianwoman #caverescue #expiredvisa pic.twitter.com/qUZzAnD5eA
— ANI Digital (@ani_digital) July 12, 2025
গুহায় থেকে পুকুর, নদীর জলে স্নান করে, সাঁতার কেটে তাঁদের জীবন দিব্যি চলছে। তাঁর সন্তানরা খিদের জ্বালায় মরে যাচ্ছে না বলেও পুলিশের সামনে মন্তব্য করতে শোনা যায় নীনাকে।
প্রসঙ্গত ২০১৬ সালে বিসনেস ভিসা বা বাণিজ্য ভিসা সঙ্গে নিয়ে রাশিয়া থেকে ভারতে আসেন নীনা। ২০১৭ সালেই নীনার ভিসা শেষ হয়ে যায়। ২০১৭ সাল থেকেই কি রুশ মহিলা নীনা কুটনিয়া ভারতের জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কিংবা গোকর্ণের ওই গুহায় থাকছেন, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
রিপোর্টে প্রকাশ, অত্যাধিক বৃষ্টিতে গোকর্ণ গুহার চারপাশে কোথায় কোনও ধস নেমেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ জঙ্গলে যায়। সেই সময়ই হঠাৎ করে ওই রুশ মহিলার সন্ধান পায় পুলিশ। এরপর গুহায় ঢুকে ওই মহিলার সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করে কর্ণাটক পুলিশ। যা দেখে পুলিশ কার্যত অবাক হয়ে যায়। পুলিশের কথায়, গুহার ভিতরে প্লাস্টিক পাতিয়ে ওই মহিলা এবং তাঁর সন্তানরা থাকছেন। সেই সঙ্গে তাঁদের কাছে রয়েছে বিভিন্ন চটজলদি বা ইনস্ট্যান্ট ফুড। যা খেয়েই তাঁরী জীবনধারণ করছেন বলে পুলিশের নিজের চোখে দেখতে পায়।