Rahul Gandhi in Manipur. (Photo Credits: X)

ইম্ফল, ৮ জুলাই: গুজরাটে দলীয় সভা, অসমের বন্যা কবলিত এলাকার পর এবার হিংসায় জর্জরিত অগ্নিগর্ভ মণিপুরে গেলেন রাহুল। মণিপুরে এবারের লোকসভা নির্বাচনে দুটি আসনেই জিতেছে কংগ্রেস। এদিন, মণিপুর সফরে রাহুল চেষ্টা করলেন যত বেশী সম্ভব সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার। দলীয় নেতা-কর্মী, নিরাপত্তারক্ষীদের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে রাহুলের নজর ছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে আসল সমস্যাটা বোঝার।

মণিপুরী ভাষা বুঝতে পারা ও সাধারণ মানুষকে তাদের ভাষায় বলার জন্য স্থানীয়। কনভয় থামিয়ে একবার নেমে হিংসা কবলিত জায়গায় থামলেন রাহুল। মেইতি ও কুকি মণিপুরের বিবাদমান দুই জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষদের সঙ্গেও বললেন রাহুল।

দেখুন ছবিতে

মৈরঙ্গে আশ্রয় শিবিরে থাকা মানুষদের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে কথা বললেন। সেই সব ত্রান শিবিরে বহু মানুষ অনেক দিন ধরেই রয়েছেন কারও ঘর পুড়ে যাওয়ায়, তো কেউ হিংসা-খুন হওয়ার ভয়ে পালিয়ে এসে। আশ্রয় শিবির থেকে বেরিয়ে এসে রাহুল শুধু বললেন, "আমি স্তম্ভিত।" প্রসঙ্গত, রাহুল তাঁর 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'-র শুরুটা করেছিলেন মণিপুর দিয়েই।

দেখুন ভিডিয়ো

প্রধানমন্ত্রী মোদী কেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় গেলেও বিজেপি শাসিত মণিপুরে কেন একবারও যাচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে, ভারত জোড়ো যাত্রা ছাড়াও রাহুল মণিপুরে এবার নিয়ে বার চারেক গেলেন। এবার রাহুলের সফর নিয়ে মণিপুরে উন্মাদনা গতবারগুলির চেয়ে অনেক বেশী চোখে পড়ল। লোকসভার ভোটের ফলেই পরিষ্কার মণিপুর সহ উত্তর পূর্ব রাজ্যে রাহুলের গ্রহণযোগ্যতা অনেকখানি বেড়েছে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলায়।

এক বছরের বেশী সময় হতে চলল মণিপুরের উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামলাতে পারেনি সরকার। কেন্দ্রে ও রাজ্যে দুটোতেই বিজেপির 'ডবল ইঞ্জিন' সরকার। তারপরেও মণিপুর অগ্নিগর্ভ। মণিপুর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সাবধানবাণী শুনিয়েছেন খোদ আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত। মণিপুরে হিংসায় হাজার হাজার বাড়ি ছাই হয়ে গিয়েছে। চলেছে মৃত্যু মিছিল। মহিলাকে নগ্ন করে ঘোরানো থেকে লুঠপাট, প্রকাশ্যে রাস্তায় বন্দুক হাতে ঘুরে বেরানো, মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে হামলা- মণিপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখে শুধু দেশের মধ্যেই নয় বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। উত্তর পূর্ব ভারতের এই রাজ্যের পরিস্থিতি নরেন্দ্র মোদীকে নিশ্চিতভাবেই উদ্বেগে রাখছে।