প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে এই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। জগন্নাথদেবের রথের চাকা সাধারণত ১৬টি হয়ে থাকে। যা "নন্দিঘোষ" নামে পরিচিত।

রথের চাকার সংখ্যা নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা নেই, তবে সাধারণত ১৬টি চাকা দেখা যায়। এই চাকাগুলি রথের যাত্রাপথের প্রতীক, যা মানব জীবনের যাত্রাকেও নির্দেশ করে। জগন্নাথ দেবের রথের চাকা ১৬টি হয় – এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয়, পৌরাণিক ও প্রতীকী অর্থ।

জগন্নাথ দেবের রথের নাম নন্দীঘোষ। এই রথটি ১৬ চাকা বিশিষ্ট হয়। এটি সবচেয়ে বড় রথ। এতে থাকেন স্বয়ং জগন্নাথ দেব। এই বিরাট আকৃতি রথের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা অনেক বিশাল, তাই ভারসাম্য রক্ষার জন্য ১৬টি চাকা প্রয়োজন।

হিন্দু শাস্ত্র মতে সংখ্যার প্রতিটি অর্থ রয়েছে। ১৬ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: হিন্দু দর্শনে ১৬টি শোধষ উপচার (পূজার ষোড়শ উপাচার)। নারীদের ষোড়শ কলা বলে। দেবতার পূজায় ১৬টি প্রধান উপাচার ব্যবহৃত হয়। তাই এই সংখ্যাটি পূর্ণতার প্রতীক।

চক্র ও ধর্মচক্র: রথের চাকা চক্রের প্রতীক — যা ধর্মচক্রকেও বোঝায়। ১৬টি চাকা একত্রে জীবনের চক্র, ধর্মের চক্র ও সময়ের চক্রকে প্রতিনিধিত্ব করে।

ঐতিহ্য ও নির্মাণরীতি: শতাব্দী ধরে পুরীর রথযাত্রার রীতি অনুযায়ী তিনটি রথের চাকার সংখ্যা নির্ধারিত আছে।জগন্নাথের রথ – ১৬ চাকা, বলরামের রথ (তালধ্বজ) – ১৪ চাকা, সুভদ্রার রথ (দর্পদলন) – ১২ চাকা।