Rabindra Jayanti (File Image)

কলকাতা: আজ ২৫শে বৈশাখ, রবীন্দ্র জয়ন্তী (Rabindra Jayanti 2025)। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) বাংলা সাহিত্য, সংগীত, শিক্ষা, এবং সমাজ সংস্কারে অপরিসীম অবদান রেখেছেন। তাঁর সৃষ্টি ও দর্শন শুধু বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেনি, বরং বিশ্ব সাহিত্য ও মানবিক চিন্তাধারায় এক অমর ছাপ রেখেছে। প্রতিবছর ২৫শে বৈশাখ বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যপক উচ্ছ্বাসের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন উদযাপন করেন, তবে এ বছর ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধের আবহে আজ সেই উদযাপনে কিছুটা হলেও যেন ভাটা পড়েছে। আচ্ছা রবিন্দ্রনাথ কি যুদ্ধ সমর্থন করতেন? আজ জেনে নেওয়া যাক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যুদ্ধ সম্পর্কিত মতাদর্শ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) যুদ্ধকে মানব সভ্যতার জন্য ক্ষতিকর এবং মানবতার অবক্ষয়ের কারণ বলে মনে করতেন। তাঁর মতে, যুদ্ধ শুধু ধ্বংসই ডেকে আনে না, বরং মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাঁর উপন্যাস "ঘরে-বাইরে" (১৯১৬) এবং "চার অধ্যায়" (১৯৩৪)-এ যুদ্ধ ও হিংসার প্রভাব কীভাবে মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে তা প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) চলাকালীন রবীন্দ্রনাথ যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাঁর প্রবন্ধ “সভ্যতার সংকট” (১৯১৭) এবং “ন্যাশনালিজম” (১৯১৭) -এ তিনি জাতীয়তাবাদের উগ্র রূপ নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “জাতীয়তাবাদের নামে মানুষের হৃদয়ে বিদ্বেষ ও বিভেদের বীজ বপন করা হয়, যা যুদ্ধের মতো ধ্বংসাত্মক ফলাফল ডেকে আনে।”

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) সময়ে রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনের শেষ পর্যায়ে ছিলেন। তিনি সে সময়য় ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের উত্থানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ যুদ্ধকে মানবতার শত্রু হিসেবে দেখতেন এবং এর পেছনে সাম্রাজ্যবাদ, জাতীয়তাবাদ ও মানুষের লোভকে দায়ী বলে মনে করতেন। তাঁর লেখা ও বক্তৃতায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান আজও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।