হংকংয়ে একজন ফিলিপিনো প্রবাসী কর্মী (Overseas Filipino Worker - OFW) তার নিয়োগকর্তার হাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিগৃহীত হওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে পুনরায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, জনৈক নিয়োগকর্তা ওই কর্মীকে চিৎকার করে শাসন করছেন এবং এক পর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছেন। যদিও এই ঘটনাটি পুরনো, কিন্তু পুনরায় এটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রবাসীদের সুরক্ষা এবং নিয়োগকর্তাদের আচরণ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওর বিবরণ ও পটভূমি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজটিতে দেখা যায়, একটি বাড়ির ভেতরে ফিলিপিনো কর্মীকে তার কাজের জন্য চরমভাবে ধমক দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিয়োগকর্তা ওই কর্মীর ওপর চড়াও হন। ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড করা হয়েছিল অথবা গোপনে ধারণ করা হয়েছিল। এই ভিডিওটি নতুন করে শেয়ার হওয়ার পর অনেক ব্যবহারকারী হংকং প্রশাসন এবং ফিলিপিনো দূতাবাসের কাছে অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
হংকংয়ে কয়েক লাখ বিদেশি গৃহকর্মী কর্মরত রয়েছেন, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ ফিলিপাইন থেকে আসা। এই ধরনের ভিডিও পুনরায় সামনে আসায় এটি স্পষ্ট হয় যে, কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও অনেক কর্মী এখনও চার দেওয়ালের ভেতরে সহিংসতার শিকার হন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে করছে, সামাজিক মাধ্যমে এই ধরনের ভিডিওর পুনঃপ্রকাশ সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যাতে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আইনি ব্যবস্থা ও সরকারি অবস্থান
হংকংয়ের আইন অনুযায়ী, কোনো কর্মীকে শারীরিক নিগ্রহ করা গুরুতর অপরাধ এবং এর জন্য জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। অতীতে এই ধরনের অনেক ঘটনায় অভিযুক্ত নিয়োগকর্তাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফিলিপাইন সরকারের পক্ষ থেকেও বারবার তাদের নাগরিকদের বিদেশের মাটিতে সুরক্ষার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এই ধরনের ভিডিও ভাইরাল হলে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স’ (DMW) সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ভুক্তভোগী কর্মীকে আইনি সহায়তা প্রদান করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কর্মী নিগ্রহের শিকার হলে তা সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা দূতাবাসের হেল্পলাইনে জানানো উচিত। বর্তমানে হংকংয়ে প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ এবং হটলাইন নম্বর চালু রয়েছে। এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক প্রবাসী কর্মী তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছেন এবং কর্মক্ষেত্রে অধিকার রক্ষার বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
এই ফুটেজটি কত পুরনো বা এর ভিত্তিতে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও যাচাই করা হচ্ছে। তবে ভিডিওটি প্রবাসীদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে পুনরায় জনমত তৈরি করেছে।