কলকাতা শহরের অন্যতম আলোচিত লটারি ভিত্তিক খেলা হলো 'কলকাতা ফটাফট'। গত কয়েক বছরে এই খেলাটি প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে বিশাল আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের মধ্যে এর প্রভাব চোখে পড়ার মতো। প্রতিদিন নির্দিষ্ট কয়েকটি সময়ে বা 'বাজি' অনুযায়ী এর ফলাফল প্রকাশিত হয়। তবে এই খেলার জনপ্রিয়তার সমান্তরালে আর্থিক লোকসান এবং জালিয়াতির ঝুঁকিও বাড়ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কলকাতা ফটাফট খেলার প্রক্রিয়া

এই খেলাটি মূলত সংখ্যা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। প্রতিদিন সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট আটবার এবং রবিবার চারবার এই লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। খেলোয়াড়রা তাদের পছন্দের সংখ্যার ওপর বাজি ধরেন এবং ফলাফল মিলে গেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জয়ের সুযোগ থাকে। বর্তমানে বিভিন্ন অননুমোদিত অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই খেলার ফলাফল মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে।

আইনি বৈধতা ও বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গে লটারি একটি অনুমোদিত মাধ্যম হলেও, কলকাতা ফটাফটের মতো খেলাগুলোর আইনি অবস্থান প্রায়শই অস্পষ্ট থাকে। সরকারিভাবে অনুমোদিত লটারির বাইরে এই ধরনের খেলায় অংশগ্রহণ আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। লটারি আইন অনুযায়ী, যথাযথ লাইসেন্স ছাড়া বাজি ধরা বা জুয়া খেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রশাসনিকভাবে মাঝেমধ্যেই এই ধরনের বেআইনি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আর্থিক এবং মানসিক ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের খেলা মানুষের মধ্যে দ্রুত অর্থ উপার্জনের নেশা তৈরি করে। এতে লাভের চেয়ে লোকসানের আশঙ্কাই বেশি থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, লটারির নেশায় মানুষ তাদের সঞ্চিত অর্থ খুইয়ে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছে। ডিজিটাল যুগে লটারির ফলাফল বা 'টিপস' দেওয়ার নামে ইন্টারনেটে বহু ভুয়ো পোর্টাল সক্রিয় রয়েছে, যারা সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এবং অর্থ আত্মসাৎ করার চেষ্টা করে।

বর্তমানে বহু মানুষ 'ফ্রি টিপস' বা 'কনফার্ম নম্বর' পাওয়ার আশায় বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা টেলিগ্রাম চ্যানেলে যোগ দিচ্ছেন। সাইবার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের লিঙ্কে ক্লিক করলে মোবাইল হ্যাক হওয়ার বা ব্যাংকিং তথ্য চুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোনো অজানা সোর্স থেকে ফলাফল দেখতে গিয়ে নিজের ডিজিটাল নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে না ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।