ছেলের কবর আগলে কান্না 'অসহায়' বাবার (ছবিঃX)

নয়াদিল্লিঃ কবরের উপরের মাটিগুলো এখনও এলোমেলো। পাশে ছড়িয়ে রয়েছে ফুলের মালা। সেই কবরেই চিরঘুমে ছেলে। আর সন্তানের শোকে সেই কবর আঁকড়ে ধরেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা। বেঙ্গালুরুর পদপিষ্টের (Bengaluru Stampede)ঘটনায় প্রাণ হারানো আরসিবি ভক্তের বাবার এক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media)। 'অসহায়' বাবার এই কান্না দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না অনেকেই। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় একুশ বছরের লক্ষ্মণের। আরসিবির অন্ধ ভক্ত ছিলেন লক্ষ্মণ। প্রিয় দলের আইপিএল জেতার আনন্দে ছোটেন চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। সেখান থেকে আর বাবা-মায়ের কোলে ফেরা হয়নি লক্ষ্মণের। ফিরেছে তাঁর নিথর দেহ। সন্তানের জন্য জমি কিনেছিলেন তাঁর বাবা বিটি লক্ষ্মণ। এই জমিতে বাড়ি তৈরি করে পরিবারকে নিয়ে থাকার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সব শেষ হয়ে গিয়েছে! এবার এই জমিতেই ছেলেকে কবর দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি।

ছেলের কবর জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা

জানালেন, এই জমি ছেলের জন্যই কেনা। এই জমিতে সেই ছেলেকে কবর দিতে হবে তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এই জমিটা ছেলের জন্যই কিনেছিলাম। আজ সেই জমিতে ওর স্মৃতিসৌধ তৈরি হবে। আমাদের সঙ্গে যা হল তা যেন আর কারও সঙ্গে না হয়।" ওই ব্যক্তিকে কবর থেকে তোলার চেষ্টা করলে হাউমাউ কওরে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলতে থাকেন, 'আমি আর কোথাও যেতে চাই না। এখানেই থেকে যেতে চাই।' জানা গিয়েছে, মৃত লক্ষ্মণের বয়স ২১। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন তিনি। ক্রিকেটপ্রেমী ছিলেন তিনি। এদিন বাকিদের মতোই চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে যান। সেখানেই পদদলিত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। ছেলের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা চাননি সন্তানের দেহ কাটাছেঁড়া করা হোক। তাই যাতে লক্ষ্মণের দেহ ময়নাতদন্ত না করা হয় সেই আর্জি জানান।

ছেলের কবর আগলে কান্না বেঙ্গালুরুর পদপিষ্টের ঘটনায় নিহত যুবকের বাবার