সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপে ইদানীং একটি ১৯ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের কথিত ভিডিওর লিঙ্ক ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবহারকারীদের কৌতূহলকে পুঁজি করে সাইবার অপরাধীরা ডিজিটাল প্রতারণার এক নতুন জাল বিছিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভিডিওর আসল বা 'অরিজিনাল লিঙ্ক' দেওয়ার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভুয়ো লিঙ্ক শেয়ার করা হচ্ছে। এই ধরনের লিঙ্কে ক্লিক করলেই কোনো ভিডিও তো খোলেই না, উল্টে কয়েক মিনিটের মধ্যে সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ খালি হয়ে যাওয়ার গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ও পুলিশ প্রশাসন এই বিষয়ে সাধারণ নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
সাইবার অপরাধীরা মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং কৌতূহলকে কাজে লাগাতে 'সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং' পদ্ধতি ব্যবহার করছে। ফেসবুক, এক্স (টুইটার), টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো মাধ্যমে "১৯ মিনিটের ভিডিও লিক" বা "১৯:৩৪ ক্লিপ অরিজিনাল লিঙ্ক" ইত্যাদি চটকদার ক্যাপশন লিখে এই ক্ষতিকারক লিঙ্কগুলি ছড়ানো হচ্ছে। ব্যবহারকারীরা কোনো কিছু না ভেবেই যখন এই লিঙ্কে ক্লিক করেন, তখন তাঁরা একের পর এক ভুয়ো ল্যান্ডিং পেজ এবং বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের জালে জড়িয়ে পড়েন।
ডিভাইসে ক্ষতিকারক 'ব্যাঙ্কিং ট্রোজান' ভাইরাসের প্রবেশ
এই ধরনের ভুয়ো লিঙ্কে ক্লিক করার সাথে সাথেই ব্যবহারকারীর অজান্তে তাঁর মোবাইল বা কম্পিউটারে অত্যন্ত বিপজ্জনক 'অ্যান্ড্রয়েড ব্যাঙ্কিং ট্রোজান' (Banking Trojan) বা 'ইনফোস্টিলার' মালওয়্যার (Malware) ব্যাকগ্রাউন্ডে ডাউনলোড হয়ে যায়। এই মালওয়্যারটি ডিভাইসে প্রবেশ করার পর ফোনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিস এবং 'অ্যাক্সেসিবিলিটি'র নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেয়। এর ফলে ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না যে তাঁর ডিভাইসটি হ্যাক হয়েছে এবং পর্দার আড়ালে সাইবার হানার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
যেভাবে খালি হচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট
এই ট্রোজান হর্স ভাইরাসটি মূলত মোবাইল ব্যবহারকারীদের ব্যাঙ্কিং অ্যাপগুলিকে টার্গেট করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ব্যবহারকারী যখন ফোনে তাঁর নেট ব্যাঙ্কিং বা ইউপিআই (UPI) অ্যাপ ব্যবহার করেন, তখন এই মালওয়্যার সমস্ত লগইন আইডি, পাসওয়ার্ড এবং পিন নম্বর চুরি করে নেয়। শুধু তাই নয়, ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে আসা অত্যন্ত সংবেদনশীল সিকিউরিটি কোড এবং ওটিপি-ও (OTP) এই ভাইরাসটি মাঝপথেই আটকে অপরাধীদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে সাইবার অপরাধীরা অতি সহজেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ অ্যাক্সেস পেয়ে যায় এবং টাকা তুলে নেয়।
সাইবার সেলের জরুরি নির্দেশিকা ও সতর্কতা
এই নতুন ধরনের সাইবার অপরাধের বাড়বাড়ন্ত দেখে বিভিন্ন রাজ্যের সাইবার ক্রাইম বিভাগ ইতিমধ্যেই অ্যাডভাইজরি বা নির্দেশিকা জারি করেছে। এই ধরনের কথিত ভাইরাল ভিডিওগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিপফেক প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে আসা এই ধরনের লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি ভুলবশত কেউ এই লিঙ্কে ক্লিক করে ফেলেন, তবে অবিলম্বে ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ডিভাইসটি ফরম্যাট করা এবং ব্যাঙ্কিং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা জরুরি।