Bengali Boudi WhatsApp Group Links: "বাঙালি বৌদি" হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ লিঙ্কের আড়ালে বড় প্রতারণা চক্র, ক্লিক না করার পরামর্শ সাইবার বিশেষজ্ঞদের
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া "বাঙালি বৌদি" হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ লিঙ্কগুলির মাধ্যমে কীভাবে সাধারণ মানুষ সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, সেই বিষয়ে একটি সচেতনতামূলক প্রতিবেদন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে "বাঙালি বৌদি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ লিঙ্ক" (Bengali boudi whatsapp group link) বা এই জাতীয় চটকদার নামে শেয়ার করা বিভিন্ন লিঙ্কের আড়ালে সক্রিয় রয়েছে বড়সড় সাইবার অপরাধী চক্র। সম্প্রতি সাইবার বিশেষজ্ঞরা সাধারণ ব্যবহারকারীদের এই ধরনের কোনো লিঙ্কে ক্লিক না করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। অনুসন্ধান ও তদন্তে দেখা গেছে, এই ধরনের গ্রুপগুলিতে যোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মূলত ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং আর্থিক প্রতারণার ফাঁদ পাতা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই ধরনের প্রতারণামূলক ফাঁদ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।
চটকদার নামের আড়ালে ফিশিংয়ের ফাঁদ
সাইবার অপরাধীরা সাধারণত মানুষের কৌতুহল এবং দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এই ধরনের চটকদার নাম ব্যবহার করে। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) বা বিভিন্ন অননুমোদিত ওয়েবসাইটে এই লিংকগুলি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই লিঙ্কগুলির বেশিরভাগই আসলে 'ফিশিং লিঙ্ক' (Phishing Link)। ব্যবহারকারী যখনই এই লিঙ্কে ক্লিক করেন, তখন তাকে হোয়াটসঅ্যাপের মতো দেখতে একটি নকল বা ক্লোন ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গ্রুপে যোগ দেওয়ার নামে ব্যবহারকারীর নাম, ফোন নম্বর, এমনকি ব্যাংকিং তথ্যের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিবরণ হাতিয়ে নেওয়া হতে পারে।
কীভাবে ছড়ানো হচ্ছে এই জালিয়াত চক্র
সাইবার ক্রাইম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই জালিয়াতি মূলত কয়েকটি ধাপে কাজ করে।
লিঙ্ক শেয়ারিং: বিভিন্ন গ্রুপ, কমেন্ট সেকশন এবং বিনোদনমূলক পেজে এই লিঙ্কগুলি পোস্ট করা হয়।
ম্যালওয়্যার ইনস্টলেশন: অনেক সময় লিঙ্কে ক্লিক করার পর ব্যবহারকারীর ফোনে অজান্তেই কোনো ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার ডাউনলোড হয়ে যায়। এর ফলে হ্যাকাররা দূর থেকেই ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা ওটিপি (OTP) চুরি করতে পারে।
আর্থিক প্রতারণা: গ্রুপে যুক্ত করার পর প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ বা বিশেষ কনটেন্ট দেখার নাম করে ছোট অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। একবার টাকা দিলে ব্যবহারকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ তথ্য অপরাধীদের কাছে চলে যায় এবং পরবর্তীতে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
বর্তমানে ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় সরকারি স্তরে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। মেটা (Meta) বা হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষকেও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই ধরনের ব্যক্তিগত স্তরের জালিয়াতি এড়াতে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব সচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
কোনো অপরিচিত উৎস বা সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট সেকশনে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ ইনভাইট লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। যদি কোনো লিঙ্কে ক্লিক করার পর ব্যক্তিগত তথ্য বা ব্যাংকিং ডিটেইলস চাওয়া হয়, তবে তা তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত লিঙ্কের কারণে প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত জাতীয় সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
(The above story first appeared on LatestLY on Jul 09, 2026 09:53 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

