বিজনুর, ২২ জুনঃ প্রেমিকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে স্বামীকে খুন করার অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। মিরাট নীল ড্রাম হত্যাকাণ্ড, মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে সোনম রঘুবংশীর স্বামীকে খুনের মত ঘটনা যেন বারেবারে ফিরে আসছে। এবার স্বামীর সম্পত্তির জন্যে তাঁকে খুন করলেন স্ত্রী। বিয়ের পর পরকীয়ায় জড়িয়ে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh)।
দিল্লির বাসিন্দা রবীন্দ্র কুমারের মৃতদেহ ৫ জুন উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) কোটদ্বার থেকে উদ্ধার হয়েছে। যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের পরেই শুরু হয় খুনের তদন্ত। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন রবীন্দ্রর স্ত্রী রীনা সিন্ধু এবং অপরজন স্ত্রীয়ের প্রেমিক পরিতোষ কুমার। প্রেমিকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে রবীন্দ্রকে খুন করার অভিযোগে রীনা এবং পরিতোষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সম্পত্তির লোভে স্বামীকে খুন
পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে (Moradabad ) রবীন্দ্র কুমারের একটি বাড়ি রয়েছে। ওই বাড়িতেই একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার চালান রীনা। সেখানেই যাতায়াত ছিল পরিতোষের। ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই মাঝে রবীন্দ্র তাঁর মোরাদাবাদের বাড়িটি বিক্রির কথা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওই সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৩ কোটি। স্বামীর সেই সম্পত্তি হাতানোর জন্যে পরিতোষের সঙ্গে মিলে রবীন্দ্রকে খুনের ছক করেন রীনা। প্রেমিককে জানান, খুনের পর সম্পত্তি বিক্রি করে ১০ লক্ষ টাকা তিনি পরিতোষকে দেবেন।
৩১ মে রবীন্দ্রকে নিয়ে বিজনুরে পরিতোষের বাড়িতে আসেন রীনা। সেখানে রবীন্দ্রকে প্রচুর মদ খাওয়ান তাঁরা। চূড়ান্ত মদ্যপ হয়ে যখন প্রায় জ্ঞান হারানো অবস্থা ঠিক তখনই ধারালো অস্ত্র দিয়ে রবীন্দ্রকে খুন করেন পরিতোষ। রীনার চোখের সামনেই খুন হন রবীন্দ্র। দেহ নিয়ে দুজনে উত্তরাখণ্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তাঁরা। কোটদ্বারে গিয়ে দেহ ফেলে আসেন।