ঋতুস্রাব নিয়ে পড়ুয়াদের সঠিক শিক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে স্কুলে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছিলেন এক প্রধান শিক্ষিকা। স্কুলের বাথরুমে রক্ত পড়ায় কার্যত ছাত্রীদের বকাবকি, এমনকী তাঁদের অন্তর্বাস খুলে প্রমাণ দেখানোর নির্দেশিকা জারি করলেন তিনি। সম্প্রতি এমনই ঘটনা ঘটল মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) শাহপুরে দামিনী স্কুল নামে একটি বেসরকারী গার্লস স্কুলে। মঙ্গলবার অভিভাবকদের পক্ষ থেকে স্কুল চত্বরে প্রতিবাদ দেখানো হয়, এমনকী স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। সেই অভিযোগ পেতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও ট্রাস্টের দুই সদস্য সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বুধবার অভিযুক্তদের মধ্যে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রক্তের দাগ থাকলে স্কুলে প্রবেশ নিষেধ

জানা যাচ্ছে, বাথরুমের প্রায়শই রক্ত পড়ে থাকা নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও বাকি শিক্ষিকারা একটি বৈঠক করেন। তারপরেই নয়া নির্দেশিকা জারি করা হয় যে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রীদের স্কুলে ঢোকার পর নিয়মিত অন্তর্বাস পরীক্ষা করাতে হবে। সেখানে যদি রক্তের দাগ লেগে থাকে, তাহলে তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই নির্দেশিকা দেখেই প্রতিবাদ শুরু করেন ছাত্রীদের অভিভাবকরা। তাঁরা কার্যত স্কুলে ঢুকে প্রতিবাদ করা শুরু করে। নির্দেশিকার কথা কানে যায় স্কুল কর্তৃপক্ষের। তাঁরা ওইদিন রাতেই প্রিন্সিপালকে বহিস্কার করে।

গ্রেফতার ২

এদিকে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে প্রিন্সিপাল ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর কয়েকজন সদস্য এই নির্দেশিকার সমর্থনে ছিলেন। যাঁদের মধ্যে চার শিক্ষিকা, দু’জন কমিটির ট্রাস্ট ও এক সাফাইকর্মী সামিল ছিলেন বলে জানা যায়। মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা রুজু হয়। তাঁদের মধ্যে ইতিমধ্যেই দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান।