লক্ষ্মীবারের সকালে শেয়ার মার্কেটে নামল ধস। যার ফলে সাতসকালেই বিনিয়োগকারীরা ৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। শেয়ার বাজার সূত্রে জানা গেছে আজ (৩১শে জুলাই, ২০২৫) সেনসেক্স এবং নিফটি-তে বেশ বড়সড় পতনের আঁচ পাওয়া গেছে , তবে হঠাৎ এই পরিবর্তনের পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। একবার দেখে নেওয়া যাক সূচক নেমে যাওয়ার প্রধান কারণগুলো -
১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ঘোষণা (US Tariffs): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা বাজারের সেন্টিমেন্টকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। এর ফলে ভারতীয় পণ্য মার্কিন বাজারে কম প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে, যা রপ্তানিনির্ভর খাতগুলোকে (যেমন ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইল, অটো পার্টস, আইটি পরিষেবা) সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বাড়িয়েছে।
২. ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির অনিশ্চয়তা: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট ফল দেয়নি। কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের উপর শুল্ক কমানো নিয়ে এখনও অচলাবস্থা রয়েছে। ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার ফলে এই চুক্তি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যা বাজারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
৩. বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FIIs) বিক্রি: জুলাই মাস জুড়েই বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নিচ্ছেন। এই ধারাবাহিক বিক্রি বাজারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। Q1 FY25-এর কর্পোরেট আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়া এবং ম্যানেজমেন্টের রক্ষণশীল মন্তব্যও FII-দের বিক্রির কারণ।
৪. মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে আশা ভঙ্গ: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল সেপ্টেম্বরে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাকে কমিয়ে দিয়েছেন। এতে বৈশ্বিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার কমেছে এবং তার প্রভাব ভারতের বাজারেও পড়েছে।
৫. অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি: অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের জন্য একটি উদ্বেগের কারণ, কারণ ভারত তার তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানি করে। তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি বিল বাড়ে, যা মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ায় এবং অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করে। ৩১শে জুলাই তেল স্টকগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৬. অন্যান্য বৈশ্বিক কারণ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং চীন-এর দুর্বল অর্থনীতির তথ্যও বিশ্বব্যাপী বাজারকে প্রভাবিত করেছে, যার প্রভাব ভারতীয় স্টক মার্কেটেও দেখা গেছে।
এই সম্মিলিত কারণগুলো সেনসেক্স এবং নিফটি-র মতো প্রধান সূচকগুলোতে ব্যাপক পতন ঘটিয়েছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল ক্ষতির শিকার হয়েছেন।