“Jab We Met” in Real Life. (Photo Credits:X)

Jab We Met Real Story: সিনেমা অনেক সময়ই জীবন থেকে নেওয়া হয়। আবার কখনও কখনও জীবনও সিনেমার মত হয়ে যায়। ঠিক যেমন পুণের বিবিএ-র পড়ুয়া শ্রদ্ধার জীবনে গত কয়েক ঘণ্টায় যা ঘটল। ইমতিয়াজ আলি ১৮ বছর আগে যেটা বলিউডে করে দেখিয়েছেন, সেটা বাস্তবের জীবনের সঙ্গে কোথায় যেন অনেকটা মিলে গেল। ব্যাপারটা এবার খোলসা করে বলা যাক। ইন্দোরে (Indore) গত ২৩ আগস্ট নিখোঁজ হয়েছিলেন, অবশেষে নাটকীয় ঘটনার পর নতুন স্বামীকে নিয়ে ইন্দোরে ফিরলেন। পুরো ঘটনাই যেন বলিউডের “জব উই মেট”(২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত শহীদ কাপুর, করিনা কাপুরের) ছবির মতো এক বাস্তব নাটক। পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনা ভেস্তে যায় প্রেমিকের প্রতারণা। এরপরই চরম অবসাদ থেকে আত্মহত্যা করার লক্ষ্য নিয়ে ট্রেনে উঠেছিলেন ২২ বছরের শ্রদ্ধা। কিন্তু তারপর শ্রদ্ধার জীবনে যা ঘটল তা বলিউডের হিট সিনেমা 'জব উই মেট'-কেও হার মানায়।

কোথা থেকে শুরু

ইন্দোরের এমআইজি থানার বাসিন্দা শ্রদ্ধা প্রেমিক সার্থকের সঙ্গে গোপনে বিয়ের পরিকল্পনা করে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু রেলস্টেশনে পৌঁছেই সার্থক ফোনে জানায় সে আর বিয়ে করতে চায় না। যার হাত ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন জীবন শুরু করতে এসেছিলেন, সেই প্রতারণা করায় পুরোপুরি ভেঙে পড়েন শ্রদ্ধা।

দেখুন এক নজরে পুরো ঘটনা

ট্রেনে ঠিক কী হয়েছিল

এরপর বড় মানসিক আঘাত পেয়ে তিনি এলোমেলোভাবে একটি ট্রেনে উঠে বসেন। শ্রদ্ধার লক্ষ্য ছিল, সুযোগ মত চলন্ত ঝাঁপিয়ে ট্রেন থেকে আত্মহত্যা করবে। ইন্দোর ফেরার ট্রেনে শ্রদ্ধা হতাশায় ঝাঁপ দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু রাতলাম স্টেশনে কলেজের এক পরিচিত ইলেকট্রিশিয়ান করণদীপের সঙ্গে দেখা হয়। মেয়েটির দুঃখের কাহিনি শুনে করণদীপ তাকে সান্ত্বনা দেন। শ্রদ্ধা বলেন, "আমি বিয়ের জন্য বাড়ি ছেড়েছি, অবিবাহিতা হয়ে ফেরার চেয়ে নিজেকে শেষ করে দেওয়া অনেক ভাল।"সবটা শুনে করণদীপ স্টেশনেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, শ্রদ্ধা রাজি হয়ে যান। এরপর দু’জনে মানসৌরে গিয়ে আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিয়ে সারেন। মানসৌরে কিছু হোটেল তাদের থাকতে অস্বীকার করে।

দেখুন খবরটি

এরপর কী হয়

গত ২৮ আগস্ট, বৃহস্পতিবার শ্রদ্ধা তার বাবাকে ফোন করে জানান তিনি নিরাপদ আছেন ও বিয়ে করেছেন। বাবা অর্থ পাঠিয়ে দেন যাতে তারা ইন্দোর ফিরতে পারেন। ইন্দোর ফিরে শ্রদ্ধা সরাসরি সব কিছু এমআইজি থানায় গিয়ে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। এডিসিপি রাজেশ দণ্ডোটিয়া জানান, তাদের বিয়ে ও ঘটনার সত্যতা যাচাই চলছে। শ্রদ্ধার বাবা অনিল তিওয়ারি মেয়ের ফেরায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও আপাতত দু’জনকে আলাদা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড করছে এই ঘটনা

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল: এই ‘রাতলাম রোমান্স’ ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। নেটিজেনরা #IndoreLoveStory ও #RatlamRomance হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে মিম শেয়ার করছেন।

এক নজরে পুরো ঘটনা

ইন্দোরের ২২ বছরের বিবিএ পড়ুয়া, এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর ফিরল একেবারে সিনেমার মতো টুইস্ট নিয়ে। সেই মেয়েটি বাড়ি ফিরে জানিয়েছে, ট্রেনে আলাপ হওয়া কলেজের এক ইলেক্ট্রিশিয়ানকেই বিয়ে করেছে! পুলিশকে দেওয়া বয়ান অনুযায়ী ঘটনাটা মোটের ওপর এই রকম- প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল শ্রদ্ধার। কিন্তু তার প্রেমিক স্টেশনে এলই না। এরপর হতাশায় সে যে কোনও একটি ট্রেনে উঠে পড়ল আত্মহত্যার কথা ভেবে। কিন্তু ট্রেনে রতলামে আচমকাই দেখা হয়ে গেল করণদীপ নামে এক কলেজের এক ইলেক্ট্রিশিয়ানের সঙ্গে। সব কথা সে খুলেল বলল ছেলেটিকে। এরপর সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব। শ্রদ্ধা রাজি হল। ঠিক তারপরেই ট্রেন থেকে নেমেই সোজা পরে মহেশ্বর মন্দিরে বিয়ে। শেষমেশ নবদম্পতি সোজা ঢুকল থানায়। পুলিশ সন্দিহান, পরিবার স্তম্ভিত।