সারোগেসির নামে অন্যের শিশুকে বিক্রি করে টাকা কামাচ্ছিল একটি ক্লিনিক। রবিবার একটি ক্লিনিকে হানা দিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদের (Hyderabad) নর্থ জোনের গোপালপুরম থানা এলাকায়। এক দম্পতির অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। আর তারপরই এই ক্লিনিকের পর্দাফাঁস করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সারোগেসির নামে দম্পতিদের থেকে টাকা নিয়ে পাচার হয়ে আসা শিশুদের বিক্রি করত এই ক্লিনিক। এভাবে একাধিক দম্পতিকে অন্যের শিশু বিক্রি করছিল। সম্প্রতি এক দম্পতির সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা ডিএনএ টেস্ট করায়। আর তখনই তার প্রমাণ মেলে। তারপরেই স্বাস্থ্য দফতর ও পুলিশের দারস্থ হয় ওই পরিবার।
ডিএনএ টেস্ট করতেই সামনে আসে আসল রহস্য
জানা যাচ্ছে, গোপালপুরম এলাকায় ইউনিভার্সাল সৃষ্টি ফার্টিলিটি ক্লিনিকে গতবছরের অগাস্ট মাসে এই দম্পতি সারোগেসির জন্য যায়। প্রক্রিয়ার জন্য দুজনের থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কয়েকদিন পর ক্লিনিকের তরফে জানানো হয় সারোগেসি মাদার পাওয়া গিয়েছে এবং শরীরে ভ্রুণ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এরপর চলতি বছরের জুন মাসে দম্পতির হাতে তুলে দেয় একটি শিশুকে। প্রথমে তাঁদের সন্দেহ না হলেই সম্প্রতি একটি জায়গা থেকে ওই শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করান। তখনই সমস্ত সত্যি সামনে আসে।
গ্রেফতার ৮ অভিযুক্ত
এরপরেই ক্লিনিকে গিয়ে প্রতিবাদ করেন তাঁরা। তবে সেখান থেকে তাঁদের বের করে দেওয়া হলে স্বাস্থ্য দফতরে লিখিত অভিযোগ জানায় দম্পতি। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে বেআইনিভাবে ভুয়ো সার্টিফিকেট দেখিয়ে ক্লিনিক চালাচ্ছিলেন নম্রতা নামে এক চিকিৎসক। এখানে শিশু পাচারের একটি চক্রের সঙ্গে এই চিকিৎসকদের যোগাযোগ ছিল। তাঁরা বিভিন্ন জায়গা থেকে শিশু চুরি করে এই ক্লিনিকে বিক্রি করত। যদিও এই ঘটনায় অমৃতা নামে এক চিকিৎসক মূল অভিযুক্ত। অমৃতা সহ ৮ অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।