মুম্বই, ৯ এপ্রিল: আইনি (Legal Marriage) বিয়ে, তার বৈধতা এবং যৌনতা (Sex) নিয়ে বড় মন্তব্য করল বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের তরফে জানানো হয়, বিয়ের পর আইনি স্বীকৃতির দ্বারাই দম্পতি যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে দম্পতির মাঝে তৈরি হওয়া শারীরিক সম্পর্ক কখনওই যৌনতা নয়। আইনি বিয়ের পর ধর্মীয় আচার, আচরণের কোনও প্রয়োজন নেই। ধর্মীয় আচার ছাড়া আইনি স্বীকৃতি থাকলেও যৌনতা বৈধ বলে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি বম্বে হাইকোর্টে (Bombay High Court) এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর খারিজ করে দেওয়া হয়। আদালতের তরফে জানানো হয়, অভিযোগকারিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিয়ে হয়। আইনিভাবেই ওই ব্যক্তির সঙ্গে অভিযোগকারিনীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল কিন্তু ধর্মীয় আচার মেনে বিয়ে হয়নি। তাই অভিযোগকারিনী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বামী, স্ত্রী হিসেবেই পরিচিত। আইনি স্বীকৃতি থাকলেই তাঁরা স্বামী, স্ত্রী। সেক্ষেত্রে বিয়ের জন্য ধর্মীয় আচার, আচরণের প্রয়োজন নেই।
পাশাপাশি আইনি স্বীকৃতি থাকলেই মহিলা এবং পুরুষ শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে পারেন বলে বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি ভারতী ডাংরে এবং নিবেদিতা মেহতার ডিভিশন বেঞ্চের তরফে জানানো হয়।
জানা যায়, ২০২২ সালে ২৬ বছরের এক তরুণ আইনিভাবে প্রেমিকাকে বিয়ে করেন। বিয়েতে আইনি স্বীকৃতি থাকলেও, তা ধর্মীয়ভাবে পালন করা হয়নি। আইনি বিয়ের পর ওই দম্পতি যৌনতায় লিপ্ত হলে, হঠাৎ করেই সংশ্লিষ্ট যুবেকর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। এফআইআরে বলা হয়, আইনি বিয়ে হলেও, ধর্মীয়ভাবে স্বীকৃতি মেলেনি। অনুষ্ঠান করে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও ওই যুবক তা পালন করেননি। ফলে আইনসিদ্ধ বিয়েকে অস্বীকার করে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ দায়ের করেন স্ত্রী।
এরপরই মামলা বম্বে হাইকোর্ট উঠলে বিয়ের পর শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে গেলে, ধর্মীয় আচার আচরণের প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট জানানো হয়।