Elon Musk, Tesla Car. (Photo Credits:X)

Tesla Car Sale India: ভারতে লাখ লাখ গাড়ি বিক্রির স্বপ্নে বুকে বেঁধে মুম্বইয়ে শোরুম খুলে বড় ধাক্কা খেল টেসলা। ভারতে উৎসবের মাসে অক্টোবরে ইলন মাস্কের (Elon Musk) বিলাসবহুল ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানি মাত্র ৪০টি গাড়ি বিক্রি করেছে। ভারতে লঞ্চ করার পর মাস্কের টেসলা প্রথম মাসে মাত্র ৬১ টি গাড়ি বিক্রি (সেপ্টেম্বর, ২০২৫) করেছিল। দিওয়ালি সহ বড় উতসবের মরসুমে এত কম গাড়ি বিক্রি হওয়ায় ভারতে টেসলার ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বছরের পর বছর ভারত প্রবেশ নিয়ে মাস্কের পরিকল্পনা, এমনকি আমেরিকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক, সবকিছুর পরও বাজার দখলে টেসলা এখনো অনেকটা পিছিয়ে। সেখানে টাটা ও মাহিন্দ্রার মতো দেশীয় সংস্থাগুলো আগেই এগিয়ে, নিজস্ব ইভি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। ইউরোপের রেকর্ড পরিমাণ বিক্রির ঘাটতি পূরণ করতে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের বাজারকে টার্গেট করে বড় স্বপ্ন দেকছেন টেসলা সিইও মাস্ক। কিন্তু শুরুতেই ইলেকট্রিক লাড়ির ব্যবসায় বড় ধাক্কা খেলেন মাস্ক। মাসে ৪০টি ইউনিট বিক্রি হল ভারতের মাসিক প্রায় ৪ লাখ গাড়ি বিক্রির তুলনায় শূন্যের কোঠায়। ভারতে এখন টেসলার বাজার শেয়ার ০.০১% সময়ের সঙ্গে ভারতের ইভি বাজার ২০% বৃদ্ধি পেলেও টেসলা তাল মিলিয়ে উঠতে পারেনি।

কেন বিক্রি এত কম

টেসলার মডেল ৩ ও মডেল ওয়াইয়ের দাম শুরু ভারতীয় মুদ্রায় ৪০ লক্ষ টাকার উপরে। যা ভারতীয় ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। যেখানে দেশের অধিকাংশ ক্রেতা ১৫ লাখের নিচের ইকেলট্রিক গাড়ির দিকে ঝুঁকে থাকেন। সরকারের ভর্তুকিও সস্তা দেশীয় ইভির পক্ষেই বেশি। গাড়ি আমদানিতে ভারতের ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ টেসলার দাম আরও বাড়িয়েছে। শুল্ক কমানোর দাবিতে টেসলার দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও এখনো কোনো নীতিগত ছাড় মেলেনি।

ভারতে যেসব সমস্যার মুখে টেসলা

মুম্বই-দিল্লিতে কেবল হাতে গোনা কয়েকটি সুপারচার্জার। ফলে গাড়ির রেঞ্জ নিয়ে শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। এর মধ্যে দেশের চার্জিং নেটওয়ার্ক মূলত ধীরগতির চার্জিং পয়েন্ট নির্ভর। চিনের ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা বিওয়াইডি ও এমজি মোটর একই সময়ে হাজারের বেশি ইভি বিক্রি করেছে। শহুরে ব্যবহার উপযোগী ছোট ব্যাটারি ও সাশ্রয়ী মডেল। এটাই তাদের সাফল্যের চাবিকাঠি।

দেশে কারখানা না থাকাই বড় বাধা

টেসলা এখনও ভারতে কারখানা স্থাপনে রাজি হয়নি। বরং প্রথমে ছাড় চাইছে, যা আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, টেসলার প্রতিদ্বন্দ্বী হুন্ডাই সহ বিদেশের কিছু কোম্পানি ভারতে ইতিমধ্যেই কারখানা স্থাপনে এগিয়ে গেছে।

বিশ্ব ও ভারতের বাজারে ফারাক

আমেরিকা ও ইউরোপে বাজার শাসন করলেও ভারত বাজারে টেসলার অবস্থান প্রায় নেই বললেই চলে। ডান-হ্যান্ড ড্রাইভ মডেলের দেরি, সার্ভিস নেটওয়ার্কের ঘাটতি, দামের বাধা। সব মিলিয়ে সমস্যা আরও প্রকট।

ভবিষ্যত কোন পথে

বিশ্লেষকদের ধারণা, টেসলা যদি ভারতে তাদের গাড়ির দাম কমাতে না কমায়, শুল্কে ছাড় না পায় অথবা দ্রুত ভারতীয় কারখানার ঘোষণা না করে তাহলে এখানে তাদের এখানে ব্যবসা করা কঠিন হবে। ভারতের মতো বাজারে টিকে থাকতে এখনই মাস্কের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় না হলে এই বাজার হারানোর ঝুঁকি বাড়বে।