বেঙ্গালুরু, ১৩ অগাস্ট: প্রায় ২৮০০ কুকুরকে (Dog) মেরেছি। তার জন্য যদি জেলে যেতে হয়, তাও মঞ্জুর। এবার এমনই জানালেন কর্ণাটকের এক নেতা। কর্ণাটকের জনতা দল ইউনাইটেড সেক্যুলারের এক নেতা জানান, তিনি এ পর্যন্ত প্রায় ২৮০০ কুকুরকে মেরেছেন। শিশুদের সুরক্ষার জন্য তিনি ওই কাজ করেছেন। শিশু সুরক্ষার জন্য কুুকুর মেরে যদি তাঁকে জেলে যেতে হয়, তাহলে তাও মঞ্জুর বলে জানান এইচ ডি কুমারস্বামীর দলের (Karnataka Leader) ওই নেতা।
বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) ওই এমএলসি জানান, দেশের সব জন্তু, জানোয়ারকে যাতে রক্ষা করা যায়, সেই চেষ্টায় তাঁরাও অংশ নিতে চান। কিন্তু কুকুর-প্রেমীরা যা করছেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। রাস্তার সব কুকুরের জন্য শিশু, কিশোরদের যা ভোগ করতে হয়, তা অবাঞ্ছিত। প্রতিদিন ওই ধরনের ঘটনা ঘটে। টিভি, খবরের কাগজ খুললেই, শিশুদের উপর কুকুরের অত্যাচারের খবর দেখা যায়। এই ধরনের ঘটনা রুখতে যা করনীয়, তিনি তাই করেছেন। তাই এ বিষয়ে তাঁর কোনও আফশোস নেই বলে জানান কর্ণাটকের ওই এমএলসি।
কর্ণাটকে কুকুরের হামলার ঘটনা
গত মাসে কর্ণাটকের কোডিগিহাল্লিতে কুকুরের কামড়ে মৃত্যু হয় এক বৃদ্ধের। ৭০ বছরের ওই বৃদ্ধের উপর রাস্তার কুকুর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাঁকে খুন করে।
তার আগে হুব্বালিতে বছর তিনের এক শিশুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে রাস্তার কুকুর। যা অত্যন্ত মর্মান্তিক। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৩ বছরের ওই শিশুর গলায়, কাধে, মুখে কামড় বসায় রাস্তার কুকুর। তাকে টেনে নিয়ে রাস্তার পাশে চলে যায়। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ্বস্থায় এরপর ওই শিশুকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।
রাস্তার কুকুরদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
সম্প্রতি আদালতের তরফে দিল্লির রাস্তা থেকে কুকুর সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ৮ সপ্তাহের মধ্যে রাস্তার কুকুরদের সরিয়ে ডগ শেল্টারে নিয়ে যেতে হবে। দিল্লি এবং এনসিআর এলাকায় যাতে কোনও কুকুর না থাকে, সে বিষয়ে বড় নির্দেশ দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের তরফে।
আদালতের ওই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে হুলুস্থূল শুরু হয়। দেশের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ঘটে গেলেও, দোষীদের শাস্তি হয় না। অথচ পথ কুকুরদের সরানো কেন হবে নির্দয়, নিষ্ঠুরভাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে গোটা দেশ জুড়ে।