ওমপ্রকাশ বাথাম ও শিবানী ঝাঁ (ছবি;X)

নয়াদিল্লিঃ ভালবেসে (Love) উচ্চবর্ণের পরিবারের মেয়েকে বিয়ে। কিন্তু ভালবাসার পরিণতি যে এত ভয়াবহ হবে তা বোধহয় টেড় পাননি বছর ২৫ এর যুবক। শ্বশুরবাড়ির লোকের অত্যাচারে মৃত্যু হল যুবকের। টানা ৬ দিনের লড়াই শেষে হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন দলিত যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশে(Madhya Pradesh)। মৃত যুবকের নাম ওমপ্রকাশ বাথাম। বয়স মাত্র ২৫। হারসি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা। ২০২৩ সালে শিবানী ঝাঁ নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। শিবানী উচ্চবর্ণের পরিবারের মেয়ে হওয়ায় এই বিয়েতে মত ছিল না তাঁর পরিবারের। বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে এই যুগল। মেয়ের বাড়ি থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও, স্বামী স্ত্রী দু'জনেই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁদের আলাদা করা যায়নি।

শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে খুন জামাই

জানা গিয়েছে, বিয়ের পর উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকতে শুরু করেন তাঁরা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আইনি বিয়েও সারে এই দম্পতি। কিন্তু তাতেও জামাই ওমপ্রকাশের উপর বিদ্বেষ যায় না শিবানীর পরিবারের। এমনকী, উচ্চবর্ণের পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করার জন্য ওমপ্রকাশকে ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করে গ্রাম পঞ্চায়েত। শুধু তাই নয়, ওমপ্রকাশের পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়। এমনকী ওমপ্রকাশে গ্রামে পা রাখতে নিষেধ পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি বাবা-মাকে দেখতে গ্রামে ফেরে ওমপ্রকাশ। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর উপর চড়াও হয় শিবানীর পরিবার। ব্যাপক মারধর করা হয় তাঁকে। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন শিবানীও। গুরুতর আহত অবস্থায় গোয়ালিয়রের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওমপ্রকাশকে। টানা ৬ দিনের লড়াইয়ের পর সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই শিবানীর বাবা দ্বারকা প্রসাদ ঝাঁ, আত্মীয় উমা ওঝা, সন্দীপ শর্মা ও রাজু ঝাঁ-সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পলাতক প্রধান অভিযুক্ত দ্বারকা প্রসাদ। তাকে খুঁজছে পুলিশ।

শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে মৃত্যু দলিত যুবকের