Representative Image (Photo Credit: X)

পাটনা, ৮ জুলাই: এ যেন রক্ষকই ভক্ষক। না হলে, বাবার (Father) হাতে কোনও সন্তানকে ধর্ষিত (Rape) হতে হয়? শুনে ।তই চমকে ওঠেন না কেন, এবার এমনই একটি খবর এল বিহার থেকে। যেখানে এক কিশোরী দাবি করে, তার বাবার হাতে ধর্ষিত হতে হয়েছে তাকে। ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বাবার হাতে ধর্ষিত কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে, সন্তানের জন্মের পর তাকে সে রেখে আসে মোরাদাবাদ প্ল্যাটফর্মে। বিহার (Bihar) থেকে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মোরাদাবাদে গিয়ে সদ্যোজাত সন্তানকে (Newborn Child) ফেলে আসে ওই নাবালিকা। শুধু তাই, ওই সদ্যোজাতর মাথা কিংবা শরীর না ঢেকেই তাকে প্ল্যাটফর্মে ফেলে আসার মত ঘৃণ্য কাজ করতে দেখা যায় ওই কিশোরী এবং তার পরিবারকে।

আরও পড়ুন: Karnataka Horror: কুসংস্কারের বলি! মাকে ভূতে ধরেছে সন্দেহে স্বঘোষিত 'তান্ত্রিক' ডেকে এনে তন্ত্র সাধনা, পিটিয়ে খুন হলেন মহিলা

সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, গত ২২ জুন এক সন্তানের জন্ম দেয় নাবালিকা কিশোরী। মেয়ের শরীর খারাপ বলে তাকে দিল্লি নিয়ে যায় তার বাবা।  অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কিশোরী মেয়েকে নিয়ে দিল্লি যাওয়ার পথে হঠাৎ অসুস্থতা দেখা দেয় তার। বারাণসী স্টেশনের কাছে ওই পরিবারটি নেমে যায়। মেয়ে সন্তানের জন্ম দিলে, ওই সদ্যোজাতকে প্ল্যাটফর্মে ফেলে দেওয়া হয় বলে খবর।

বেরিলির কাছে বেশ কিছু ভেন্ডর শিশুর কান্না শুনতে পেলে তাঁরা দেখতে পান, এক সদ্যোজাত না ঢাকা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এমনকী তার জন্ম নাড়িও পেট থেকে পৃথক করা হয়নি বলে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে ওই ভেন্ডররা শিশুটিকে তুলে এসি কামরায় নিয়ে যান। সেই সঙ্গে রেলের কর্মীদের খবর দেন। এরপর মোরাদাবাদ স্টেশনে নেমে ওই শিশুটিকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।

যে ব্যাগ করে শিশুটিকে রাখা হয়েছিল, সেখানে একটি সিম কার্ড খুঁজে পায় পুলিশ। যার খোঁজ করতে গিয়ে সেটি বিহারের বলে জানা যায়। ওই সিম কার্ডের ঠিকানা খুঁজে পুলিশ নাবালিকা মাকে খুঁজে পায়। পুলিশি জেরায় যে নাবালিকা স্বীকার করে, তাকে তার বাবা ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পরই সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে বলেও স্বীকার করে।

ছাপড়ার কাণ্ড

রিপোর্টে প্রকাশ, যে কিশোরীর সঙ্গে তার বাবা ওই ধরনের ঘৃণ্য কাজ করে, তাদের বাড়ি বিহারের ছাপড়ায়। জেরায় ওই কিশোরী জানায়, তার বাবা প্রায়শয়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফিরত। ফলে ওই অবস্থায় প্রায়ই তাকে তার বাবা যৌন হেনস্থা করত। তবে হঠাৎ করেই একদিন তার বাবা তাকে ধর্ষণ করে অভিযোগে জানায় কিশোরী কন্যা। তারপরই সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। লোকলজ্জার ভয়ে সন্তানের জন্মের পর তাকে তারা ফেলে রেখে আসে বলে দাবি করে ওই কিশোরী। শুধু তাই নয়, ওই কিশোরী এবং তার মা কোনওভাবেই ওই শিশুর ভরনপোষণের দায়িত্ব নিতে পারবে না বলে জানায়।

ফলে শিশুটি বর্তমানে সরকারি হেফাজতে রয়েছে। পরবর্তীতে কী করা হবে, তা সময় বলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।