কয়েকমাস আগে মিরাটে মার্চেন্ট নেভির নৃশংস খুনের ঘটনা এখনও নিশ্চয় অনেকেরই মনে রয়েছে। এবারও সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হল সেই উত্তরপ্রদেশেই। সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে মইনপুরি (Mainpuri)। পরকীয়া সম্পর্ক জানাজানি হওয়ায় স্বামীর মাথা পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করে এক মহিলা। এমনকী খুন করতে সাহায্য করে তরুণীর প্রেমিক। খুনের পর দেহ হাইওয়েতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুজনে। শুক্রবার মইনপুরের কোতয়ালি থানা এলাকা থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিখোঁজ যুবকের দেহ উদ্ধার

গত ১ এপ্রিল জিটি রোড এলাকায় এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়ছিল। সেই সময় পরিবারের তরফ থেকে থানায় কোনও অভিযোগ না হওয়ায় বেওয়ারিশ মৃতদেহ বলে মর্গে রেখে দেয় পুলিশ। পরে সৎকারও করে দেওয়া হয়। এদিকে গত ১১ এপ্রিল সমীর কুমার নামে এক বছর ৩৫-এর ব্যক্তির নামে একটি মিসিং ডায়েরি করে সুশীল কুমার। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে সমীরের স্ত্রী মীরা কুমারীও নিখোঁজ রয়েছে।

পরকীয়া সম্পর্কের জেরে খুন

পরিবারের অভিযোগ ছিল, মীরা রিঙ্কু চৌহান নামে এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন। গত মার্চ মাসে হোলির ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন সমীর। পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে নিয়ে বিছোয়া এলাকায় সুন্নামই গ্রামে ভাড়া থাকতেন সমীর। যদিও কেরলে কর্মরত ওই যুবকের এপ্রিল মাসের প্রথমদিকে কাজে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ১০ এপ্রিলের পর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় সন্দেহ হয় পরিবারের বাকি সদস্যদের। তারপরেই পুলিশের দারস্থ হয়।

গ্রেফতার দুই  অভিযুক্ত

এদিকে পুলিশ মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে দেখে যে হাতরসের জিটি রোড এলাকায় যেখানে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয় সেখান থেকেই সমীরের ফোনও পাওয়া যায়। এরপরই পুলিশের সন্দেহ সত্যিতে প্রমাণিত হয়। জানা যাচ্ছে, সমীরকে খুন করে দেহটি যাতে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে, সেইজন্য হাইওয়েতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় মীরা ও রিঙ্কু। এরপরই তল্লাশি অভিযানে নেমে অবশেষে গ্রেফতার করা হয় দুজনকে।