দিল্লি, ১ অগাস্ট: বাংলাদেশে বসে ভারতের বিরুদ্ধে কীভাবে ষড়যন্ত্র করছে একটি সংগঠন, তার পর্দা ফাঁস করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। ৩১ জুলাই সংসদে হাজির হয়ে বিদেশমন্ত্রী (MEA) বলেন, সলতনত-ই-বাংলা নামে একটি ইসলামি সংগঠন 'গ্রেটার বাংলাদেশ' নামে একটি (Bangladesh) মানচিত্র তৈরি করছে। যে ম্যাপ বা মানচিত্রে ঢোকানো হয়েছে ভারতের বেশ কিছু অংশ। বাংলাদেশের এই ইসলামি সংগঠনের পিছনে রয়েছে তুর্কীর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংসদে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এবং তুর্কীর দুটি সংগঠনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এভাবেই মুখ খোলেন জয়শঙ্কর।
বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য
জয়শঙ্কর বলেন, বাংলাদেশে যে ভারত (India) বিরোধী চক্রান্ত চলছে, তার দিকে দিল্লির (Delhi) কড়া নজর রয়েছে। বাংলাদেশে বসে তুর্কীর অঙ্গুলিহেলনে যে সমস্ত কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে যাতে ভারতের জাতীয় সুরক্ষা কোনওভাবে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রেকর নজর রয়েছে বলে স্পষ্ট জানান জয়শঙ্কর। পাশাপাশি ভারতকে সুরক্ষিত রাখতে, সমস্ত ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও জানান বিদেশমন্ত্রী।
টার্কিস ইয়ুথ ফেডারেশন নামে তুর্কীর একটি সংস্থা বাংলাদেশের সলতনত-ই-বাংলার পিছনে রয়েছে। আর এই দুই সংগঠন একযোগে ভারত বিরোধী কাজ শুরু করেছে। সলতনত-ই-বাংলা যে গ্রেটার বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করেছে, সেখানে ভারতের বেশ কিছু অংশ দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই গ্রেটার বাংলাদেশের মানচিত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শিত হয়েছে বলেও সংসদে দাঁড়িয়ে বিদেশমন্ত্রী ঢাকাকে বুঝিয়ে দেন যে, সেখানে যা হচ্ছে তার দিকে প্রতিনিয়ত নজর রাখছে দিল্লি।
বাংলাদেশের তরফে কী জানানো হল
এদিকে বাংলাদেশ সরকারের ফ্যাক্ট চেকার হিসেবে কাজ করা 'বাংলা ফ্যাক্ট' দাবি করেছে, সলতনত-ই-বাংলা নামে কোনও সংগঠন সে দেশে নেই। সলতনত-ই-বাংলা নামে কোনও সংগঠন এবং তাদের কাজকর্মের কোনও তথ্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে নেই বলে দাবি করা হয়। যে মানচিত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখানো হয়েছে, তা সুলতান সাম্রাজ্যের বলে দাবি করে ঢাকা।
পয়লা বৈশাখের রহস্য ফাঁস
যদিও বিদেশমন্ত্রীর কথায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ পয়লা বৈশাখ ওই গ্রেটার বাংলাদেশের মানচিত্র দেখানো হয়েছে। ফলে ওই সমস্ত কুকীর্তির পিছনে তুর্কীর যে সংগঠন রয়েছে, তার তথ্যও ভারতের হাতে এসেছে বলে জানান বিদেশমন্ত্রী।