করাচি, ১২ জুলাইঃ করাচির বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে পাকিস্তানি অভিনেত্রী হুমাইরা আসগর আলির (Humaira Asghar Ali) পচা-গলা দেহ। পচন যে পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল তাতে প্রাথমিকভাবে মৃতদেহ শনাক্ত করাই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। দেহ ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট পুলিশের হাতে এসেছে। ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় পুলিশ। তবে ওই মৃতদেহ যে পাক অভিনেত্রী হুমাইরার তা এক প্রকার নিশ্চিত পুলিশ। তাও নিয়ম মেনে ডিএনএ পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে। বছর ৩২-এর হুমাইরার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে পুলিশও হতবাক। প্রায় ৮-১০ মাস আগে মারা গিয়েছেন অভিনেত্রী। এতো দিন ধরে ঘরের মেঝেতে পড়ে পড়ে দেহটি পচেছে। তবে অবাক করা বিষয়, এই দীর্ঘদিন যাবত কেউ হুমাইরার খোঁজ করেননি।
কয়েক মাস ধরে ফ্ল্যাটের ভাড়া মেটাননি বলে আবাসনের মালিক অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। আদালত সমন পাঠায় তাঁকে। সমনের উত্তর না মেলায় শেষে পুলিশ এসে ফ্ল্যাটে হানা দেয়। আর তারপরেই সামনে এসেছে হুমাইরার মৃত্যু সংবাদ।
হুমাইরা আসগরের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট
ফ্ল্যাটের মূল দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। এরপরেই চোখ কপালে ওঠে সকলের। ঘরের ভিতর উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছেন অভিনেত্রী। পচে গলে গিয়েছে দেহটি। পোকা ধরেছে শরীরে। পোকা খুবলে খেয়েছে মুখ। পচে গিয়ছে মস্তিষ্ক। দেহের অস্থিমজ্জা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। মাংস গলে হাড় বেরিয়ে পড়েছে। নখের কোন অস্তিত্ব নেই। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা রয়েছে, মেরুদণ্ড-সহ শরীরের সমস্ত হাড়ই গোটা ছিল। কোন হাড় ভাঙা ছিল না। এমনকি মৃতদেহে কোন আঘাতের চিহ্নও মেলেনি।
পাক অভিনেত্রীর মৃত্যুর কারণ
দেহের পচনের পরিমাণ এতই সাংঘাতিক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে অভিনেত্রীর মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে, ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং টক্সিকোলজি পরীক্ষা চলছে।