মুম্বইয়ে রহস্যজনক ভাবে খুন কোন্নগরের আর্ট ডিরেক্টর, উদ্ধার গলার নলি কাটা দেহ
প্রতীকী ছবি(Photo Credit: Latestly.com)

মুম্বই. ১২ আগস্ট: চার দিন নিখোঁজ থাকার পর নর্দমা থেকে উদ্ধার হল বাঙালি শিল্প নির্দেশকের (Bengali art director)দেহ। রবিবার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেচে মুম্বইয়ের গোরেগাঁওয়ের ভিরারে এলাকায়। মৃত শিল্পীর নাম কৃষ্ণেন্দু চৌধুরি (Krishnendu Chaudhury)। তিনি কর্মসূত্রে মুম্বইতে থাকলেও তাঁর বাড়ি হুগলির কোন্নগরে। গলায় নলি কাটা অবস্থায় বিছানার চাদরে মুড়ে দেহটি নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান। বছর দশেক ধরে মুম্বইয়ের বাসিন্দা কৃষ্ণেন্দুবাবু নিজেই কর্মচারীদের নিয়ে অফিস তৈরি করে শিল্প নির্দেশনার কাজ করছিলেন। এই ঘটনায় ব্যবসায়ী ফুরকান খানকে আটক করেছে পুলিশ। আরও পড়ুন-ভারত পাকিস্তান দ্বন্দ্বের মাঝেই করাচিতে গান গাইলেন মিকা সিং, তীব্র প্রতিক্রিয়া ভক্ত মহলে(দেখুন ভিডিও)

জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় কর্মীরাই ওই শিল্পীকে অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেন। তারপর থেকে তাঁর আর কোনও খবর ছিল না। ফুরকান নামের ব্যবসায়ীর কাছে টাকা পেতেন তিনি। সেই টাকা আনতেই বেরিয়েছিলেন। তবে রাত নটা বেজে ১৬ মিনিটের পর তাঁকে আর ফোন করে পাওয়া যায়নি, হোয়াটসঅ্যাপও কাজ করছিল না। এরপর কর্মীরা নিকটবর্তী থানায় কৃষ্ণেন্দুবার নিখোঁজের অভিযোগ জানালেন তদন্তে নামে পুলিশ। ব্যবসায়ী ফুরকানকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। থানাতে এসে ফুরকান ওই শিল্পীর সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি স্বীকার করে নিলেও বেশ কিছু অসংলগ্ন কথা বলতেই তদন্তকারী অফিসারদের সন্দেহ হয়। চেপে ধরতেই সে বলে, তাঁদের যখন কথাবার্তা চলছে, সেই সময়ই কৃষ্ণেন্দুবাবুর ফোন বেজে ওঠে। তিনি ফোন রিসিভ করতেই মুখের চেহারা বদলে যায়। রীতিমতো কথাকাটাকাটি চলতে থাকে। এরপরই কৃষ্ণেন্দুবাবু বেরিয়ে যান, তারপর কী করে সবকিছু ঘটল তার কিছুই জানেন না তিনি। পরে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে মিথ্যে বলেছে ফুরকান খান। সেই ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে ওই বাঙালি শিল্প নির্দেশককে খুন করেছে। পরে কৃষ্ণেন্দুবাবুর ল্যাপটপ, ফোনও গাড়ি উদ্ধার করে পুলিশ।

দেহ উদ্ধারের পর তা শনাক্তের জন্য মৃতের বন্ধুরা শিল্পীর ভাই দিব্যেন্দু চৌধুরিকে খবর দেন। তিনি দাদার দেহ চিহ্নিত করেন। ইতিমধ্যেই ফুরকানকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। মৃতের পরিবারে তরফে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালে আইল্যান্ড সিটি’ নামে এক হিন্দি ছবির আর্ট ডিরেক্টর ছিলেন কৃষ্ণেন্দু। গোরেগাঁওয়ে চার-পাঁচ কর্মীকে নিয়ে নিজের অফিসও চালাতেন। প্রায় ১০ বছর ধরে বলি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।