শরিয়ত আইনে আগামী ১৬ জুলাই অর্থাৎ বুধবার ইয়েমেনে ফাঁসি হতে চলেছে কেরলের বাসিন্দা নিমিশা প্রিয়ার (Nimish Priya)। ২০২০ সালে ইয়েমেনের একটি নিম্ন আদালত তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছিল। তখন থেকে নিমিশার পরিবার এটা আটকানোরর চেষ্টা করছিল। এমনকী ভারত সরকারও এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু কোনওভাবে ইয়েমেন সরকার নিজের অবস্থান বদলায় না। ফলে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কাছে পৌঁছচ্ছে নিমিশা। তবে এখনও হাল ছাড়তে নারাজ নিমিশার পরিবার। তাঁরা এখনও দুই দেশের সরকারের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। এখনও তাঁদের আশা নিমিশাকে জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার।
নিমিশাকে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া পরিবার
নিমিশার স্বামী টমি থমাস বলেন, আমরা নিমিশার সঙ্গে টেক্সট ও ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগ রেথেছি। গতকাল সেদেশের গভর্নরের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে নিমিশার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ হয়ছিল। সেখানেও আমরা মৃত্যুদণ্ড রদ করার আর্জি জানিয়েছি। কেন্দ্র সরকার, রাজ্য সরকার, বিদেশ মন্ত্রক সবরকমভাবে আমাদের পাশে রয়েছেন। আমাদের আইনজীবীও সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে। কোনও না কোনও ভাবে ওঁর মৃত্যুদণ্ড আটকানোর চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা।
চাকরিসূত্রে ইয়েমেন পাড়ি দিয়েছিলেন নিমিশা
প্রসঙ্গত, ইয়েমেনে নার্স হিসেবে চাকরি করতেন নিমিশা। দীর্ঘদিন চাকরি করার পর সেদেশে ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন কেরলের এই তরুণী। তবে ইয়েমেন সরকারের নিয়ম অনুযায়ী সেদেশে কোনও বিদেশী ব্যবসা করলে দেশের এক নাগরিককে সঙ্গী বানাতে হবে। সেই কারণে তালাল আবদো মাহদির সংস্পর্শে আসেন নিমিশা। তাঁকে ব্যবসায়িক অংশীদার বানিয়ে ক্লিনিক খোলেন সে। তবে ধীরে ধীরে মাহদির আসল রূপ বেরিয়ে আসে। অভিযোগ ছিল মাহদি তাঁর পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে মারধর করত এবং ক্লিনিকের সব টাকা সে হাতিয়ে নিত।
খুন করেছিলেন ইয়েমেনের নাগরিককে
ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ার ফলে নিমিশা দেশে ফিরতে চায়। তবে তাঁর পাসপোর্ট যেহেতু মাহদির কাছে ছিল সেই কারণে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে নথিপত্র নিয়ে পালাতে চেয়েছিল নিমিশা। তবে ডোজ বেশি হওয়ায় মৃত্যু হয় তাঁর। আর সেই অভিযোগেই ২০১৭ সালে গ্রেফতার করা হয় নিমিশাকে। ১৮ সালে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ইয়েমেন আদালত। তারপর থেকেই তাঁকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাঁর পরিবার।