ব্যাঙ্কক: আচমকা একসঙ্গে অনেক টাকা পেলে মাথা খারাপ হয়ে যায় অনেকের! অত টাকা নিয়ে কী করবে ঠিক যেন ভেবে উঠতে পারে না তারা। আবার অনেক সময় কেউ কেউ কোনওভাবে প্রচুর টাকার মালিক হলেই প্রতারণা করে নিজের সবথেকে প্রিয় মানুষের সঙ্গেই। সম্প্রতি এমন ধরনেই একটি ঘটনাই ঘটেছে থাইল্যান্ডে (Thailand)। লটারি জেতার পর টাকা রোজগারের জন্য অন্য দেশে যাওয়া বরকে (Husband) লুকিয়ে এক পুলিশ আধিকারিককে বিয়ে (Marry) করে সুখে সংসার পেতে ছিল এক মহিলা (Woman)। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি, দেশে ফিরে বিষয়টি জানতে পারার পর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের (filed a lawsuit) করেছেন ওই মহিলার স্বামী।
থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, থাইল্যান্ডের বাসিন্দা ৪৭ বছরের নারিনের (Narin) ২০ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। বর্তমানে তাঁর তিনটি মেয়েও আছে। বিয়ের কয়েক বছর বাদে নারিন ও তাঁর স্ত্রী ঘাড়ে ২০ লক্ষ বাটের বেশি দেনা হয়ে গেছিল। কোনওভাবে সেই টাকা শোধ করতে না পারছিলেন না তাঁরা। তাই ২০১৪ সালে দেনার টাকা শোধ দেওয়ার আশায় দক্ষিণ কোরিয়াতে (South Korea) কাজ করতে যান নারিন ও তাঁর স্ত্রী চাওউইওয়ান। পরে নারিন দক্ষিণ কোরিয়া কাজ করতে থাকেন আর তার স্ত্রী মেয়েদের দেখাশোনা করার জন্য ফিরে আসেন থাইল্যান্ডে। প্রতিমাসে কাজ করে পরিবারের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২৭-৩০ হাজার বাট পাঠাতেন নারিন।
কিছুদিন আগে নারিন জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী লটারিতে (Lottery) ২.৯ কোটি টাকা জিতলেও তাঁকে কোনও খবর দেননি। এরপর নিজের স্ত্রীকে ফোন করলেও সে ফোন ধরেনি। বাধ্য হয়ে মার্চের তিন তারিখ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে থাইল্যান্ডে আসেন নারিন। দেশে ফিরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একজন পুলিশ আধিকারিককে বিয়ে করেছেন। বিষয়টি জানতে পারার পরেই স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন তিনি।
এপ্রসঙ্গে নারিন বলেন, "বিষয়টি জানতে পারার পরেই প্রচণ্ড আঘাত পাই আমি। কী করব তাও বুঝে উঠতে পারছিলাম না। ২০ বছর ধরে সংসার করার পরে আমার স্ত্রী এই ধরনের কাজ করবে আমি আশাই করতে পারিনি। আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখন মাত্র ৬০ হাজার বাট পড়ে রয়েছে। কারণ আমি প্রতি মাসে তাকে টাকা পাঠাতাম। তাই আমি সুবিচার চাইছি ও আমার প্রাপ্য টাকা ফেরত চাইছি।"
যদিও নারিনের স্ত্রীর দাবি, সে লটারি পেয়ে নতুন বিয়ে করার অনেক আগেই নারিনের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেছে। কিন্তু, তাঁর সঙ্গে এভাবে সম্পর্ক ত্যাগের বিষয়টি নারিন কোনওভাবেই জানতেন বলে দাবি করেছেন।