এনআরসি-র প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কলকাতার রাজপথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপির হামলার আশঙ্কায় ব্যারিকেডে মুড়ল শহর
মমতা ব্যানার্জি। (Photo Credits: Twitter)

কলকাতা, ১১ সেপ্টেম্বর: রাত পোহালেই কেন্দ্রের এনআরসি-র প্রতিবাদে মুখর হবে কলকাতা। এনআরসি বিরোধী সেই পদযাত্রায় সাধারণ মানুষের সঙ্গেই হাঁটবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। স্তব্ধ হয়ে যাবে কলকাতার যানবাহন, যেকোনও রকম বিরোধিতা প্রতিরধে তাই আজ থেকেই সক্রিয় রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন। এই মিছিল ঘিরেই সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তায় তৈরি হচ্ছে বেনজির নিরাপত্তা বেষ্টনী (Tight Security)। বিজেপি যাতে কোনওভাবেই মিছিলের উপরে হামলা করতে না পারে সেজন্য রাস্তার দুপাশে ব্যারিকেড গড়তে টেন্ডার ডাকল পূর্ত দপ্তর (PWD)। এই মিছিল ঘিরেই সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তায় তৈরি হচ্ছে বেনজির নিরাপত্তা বেষ্টনী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআরসি-র বিরোধিতায় সিঁথির মোড় থেকে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড় পর্যন্ত হাঁটবেন।

আজকে সিইএসসি-র চার্জ নিয়ে যে কাণ্ডটা ঘটাল বিজেপি কর্মীরা তাতে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে বেশ আশঙ্কায় পুলিশ প্রশাসন। কেন্দ্রের জারি করা জাতীয় নাগরিক পঞ্জির বিরোধিতায় যদি তৃণমূল রাস্তায় নামে তাহলে বিজেপি নানাভাবে তাদের উত্যক্ত করতে পারে। কেননা দিলীপ ঘোষ তো সেই ছাড়পত্র দলীয় কর্মীদের দিয়েই রেখেছেন। তাই সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেকারণেই সময় থাকতে সাবধানতা অবলম্বনে নামল রাজ্যের পূর্ত দপ্তর। এদিকে এনআরসি-র  বিরোধিতায় বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী নয়, তৃণমূল নেত্রী হিসেবে কলকাতার রাজপথে হাঁটবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে তাঁর জন্য় কেন সরকারি নিরাপত্তার এমন অভূতপূর্ব আয়োজন হবে, তানিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার বলে সরকারি নিরাপত্তা পেতে পারেন, কিন্তু একজন রাজনৈতিক নেত্রী কীকরে এতটা নিরাপত্তা পাবেন, তানিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আরও পড়ুন-বিজেপি যোগের জল্পনা উড়িয়ে প্রকাশ্যে দেবশ্রী রায়, রায়দিঘির বিধায়ক গেলেন বিধানসভায়

এসব কানঘুষো কথা তৃণমূল শিবিরেও পৌঁছেছে। তৃণমূল ভবন থেকে নবান্ন, কালীঘাটের বাড়ি থেকে জেলা সফর। সর্বত্রই মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে থাকে নিরাপত্তা বলয়। এ কোনও নড়চড় কখনও হয়নি, মাঝে মাঝে মমতা নিজে সেই বলয় ভেঙে মানুষের কাছাকাছি চলে গিয়েছেন, সঙ্গে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা তটস্থ হয়ে থেকেছেন। তাই তিনি দলনেত্রী হিসেবেই নামুন আর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে, প্রোটোকল তো একই থাকবে।