কাটমানি ইস্যুতে নবান্নের সামনে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ বিজেপির, শহরে চাঞ্চল্য
প্রতীকী ছবি(Photo Credit: IANS)

কলকাতা, ১৮ জুলাই: কাটমানি ইস্যুকে (Kat-money) কেন্দ্র করে উত্তাল নবান্ন (Nabanna)। বিজেপির (BJP) মহিলা মোর্চার কর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ‘জয় শ্রী রাম’, ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে দিতে রাস্তাতেই শুয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসরে নামে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি হয়। এমনিতেই কাটমানি বিতর্কে বেশ বিপাকে শাসক তৃণমূল। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সারা রাজ্যেই ধর্না বিক্ষোভ চলছে। এবার তা পৌঁছাল নবান্নের দরজায়। এদিন অপ্রতিরোধ্য বিক্ষোভকারীদের (Agitator) বেশ কয়েকজনকে প্রায় টেনে হিঁচড়ে প্রিজনভ্যানে তোলে পুলিশ। আরও পড়ুন- কাকভোরেই গুলির আওয়াজ, ঋণের ভার সইতে না পেরে দুই পোষ্যকে মেরে আত্মঘাতী যুবক

উল্লেখ্য, কাটমানি ইস্যুতে জেলায় জেলায় চলছে বিক্ষোভ। ইতিমধ্যেই কাটমানি ইস্যুতে অমিত শাহের মন্ত্রক নোটিস পাঠাল রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় দে-কে। গত পয়লা জুলাই লোকসভার অধিবেশনে কাটমানি ইস্যু নিয়ে তৃণমূলকে কার্যত তুলোধনা করেছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার টেনে বলেছিলেন, কালীঘাটের ফ্ল্যাট থেকে থাইল্যান্ড-এর সোনা- সবই হচ্ছে কাটমনির দৌলতে। এমনকী তিনি এ-ও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীই বলেছিলেন, দলকে ৭৫ শতাংশ দিয়ে নিজেরা ২৫ শতাংশ খাও। ওঁর কাছে কাটমানির ৭৫ শতাংশ আছে।” তবে কাটমানি ইস্যুতে নবান্নের সামনে বিজেপির মহিলা মোর্চার বিক্ষোভে যারপরনাই ক্ষুব্ধ রাজ্যে শীর্ষ পুলিশকর্তারা। নিরাপত্তার ফাঁক গলে কী ভাবে নবান্নের মেন গেটের সামনে পৌঁছে গিয়েছিলেন জনা ২০ মোর্চা কর্মী, সেই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। সূত্রের খবর, যাঁরা সেই সময়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বলা বাহুল্য, মুখ্যমন্ত্রীর কাটমানি ফেরতের নিদানের পরেই রাজ্য জুড়ে চলছে বিক্ষোভ, ধর্না। তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের বাড়ি গিয়ে কাটমানি ফেরত চাইছেন ভুক্তভোগীরা। এই কাটমানি ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে আগেই ময়দানে নেমেছিল বিজেপি। এবার খাস নবান্নের দরজায় পৌঁছে গেল বিক্ষোভ। আজকের ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিক্ষুব্ধ মোর্চা কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের হটাতে পথে নেমে বেশ কিথুক্ষণ ঘাম ঝরাতে হয়েছে পুলিশকর্মীদের। তারপরই বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।