CM Mamata Banerjee On Cyclone Amphan: ‘আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা আয়লার থেকে অনেক বেশি, করোনার থেকেও ভয়াবহ’, মমতা ব্যানার্জি
একে মহামারী করোনার কোপ, তাতে লকডাউনের জেরে পশ্চিমবঙ্গের কৃষি নির্ভর অর্থনীতি ভাঙনের মুখে পৌঁছেছিল। আম্ফান ঘূর্ণিঝড় (Cyclone Amphan) তাতে নয়া সংযোগ দিল। মাঠে কেটে রাখা বোরো ধান জলেডুবে নষ্ট হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানেই শুধু ১২,৩৪০ হেক্টর জমিতে চাষ করা তিল জলের তলায় রয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির আনাজও নষ্ট হতে বসেছে বলে অনুমান। মুর্শিদাবাদে ক্ষতি হয়েছে ধান, আম, লিচু, পান, পাট, তিল, আনাজ-সহ নানা ফসলের। সাড়ে ১৬ হাজার হেক্টর জমির ফল এবং ১ লক্ষ ৫৮ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ক্ষয়ক্ষতির ৪০ শতাংশ রিপোর্ট এখনও আসেনি। এগরা মহকুমাতেও প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে দু’জন মারা গিয়েছেন। দাঁতন, কেশিয়াড়ি, মোহনপুরেই ক্ষতির পরিমাণ বেশি।
কলকাতা, ২২ মে: একে মহামারী করোনার কোপ, তাতে লকডাউনের জেরে পশ্চিমবঙ্গের কৃষি নির্ভর অর্থনীতি ভাঙনের মুখে পৌঁছেছিল। আম্ফান ঘূর্ণিঝড় (Cyclone Amphan) তাতে নয়া সংযোগ দিল। মাঠে কেটে রাখা বোরো ধান জলেডুবে নষ্ট হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানেই শুধু ১২,৩৪০ হেক্টর জমিতে চাষ করা তিল জলের তলায় রয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির আনাজও নষ্ট হতে বসেছে বলে অনুমান। মুর্শিদাবাদে ক্ষতি হয়েছে ধান, আম, লিচু, পান, পাট, তিল, আনাজ-সহ নানা ফসলের। সাড়ে ১৬ হাজার হেক্টর জমির ফল এবং ১ লক্ষ ৫৮ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ক্ষয়ক্ষতির ৪০ শতাংশ রিপোর্ট এখনও আসেনি। এগরা মহকুমাতেও প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে দু’জন মারা গিয়েছেন। দাঁতন, কেশিয়াড়ি, মোহনপুরেই ক্ষতির পরিমাণ বেশি।
আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ের কোপে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দুই ২৪ পরগনা ও কলকাতা। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, আম্ফানের হামলায় রাজ্যে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঁদের মধ্যে কলকাতায় ১৯ জন এবং বিভিন্ন জেলায় ৬১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ভাবে ১ হাজার কোটি টাকাও বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। করোনা পরিস্থিতিতে আর্থিক সঙ্কট চলছে। তাই বিপর্যয় মোকাবিলার প্রতিটি টাকা হিসেব করে খরচ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মৃতদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণও দেবে রাজ্য। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসেবে, আমপান ৪০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে। সাত-আটটি জেলা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত, আরও চার-পাঁচটি জেলা বিপর্যস্ত। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করতে প্রতিটি দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতায় জলে ডুবে চার জন এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। রিজেন্ট পার্কে দেওয়াল চাপা পড়ে এক মহিলা ও তাঁর ছেলে এবং কড়েয়ায় টালির চাল ভেঙে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ে উড়ে আসা টিনের চালার আঘাতে শম্ভুনাথ পণ্ডিত স্ট্রিটে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও, ঝড়ে আরও দু’জনের মৃত্যু সংবাদ পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে। মৃতদের চার জনের পরিচয় রাত পর্যন্ত জানা যায়নি। বুধবার রাতে বাড়ি চাপা পড়ে সাঁতরাগাছিতে মৃত্যু হয় রজত পোলেন নামে এক যুবকের। এ দিন ভোরে বেলুড়ে বিকাশ সিংহ নামে এক যুবক ছেঁড়া তার সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। টিকিয়াপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় খালেদ নিশাদ নামে এক ব্যক্তির। ব্যাঁটরার সানপুরেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে দুই যুবকের। গাছ পড়ে ও জলমগ্ন হয়ে বিধ্বস্ত হাওড়ার বিভিন্ন এলাকা। আরও পড়ুন-Cyclone Amphan: 'বাংলার মানুষের শক্তি এবং এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছের জোরেই আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত থেকে ঘুরে দাঁড়াব আমরা', টুইট মমতা ব্যানার্জির
মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘১৭৩৭ সালে এমন দুর্যোগ হয়েছিল। সতর্কবার্তা পেয়ে পাঁচ লক্ষেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছিল বলে লক্ষাধিক প্রাণ বাঁচানো গিয়েছে। দুই ২৪ পরগনা ও কলকাতায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর তীব্রতা আয়লার থেকেও অনেক বেশি। এ করোনার থেকেও ভয়াবহ দুর্যোগ।’’
(The above story first appeared on LatestLY on May 22, 2020 08:31 AM IST. For more news and updates on politics, world, sports, entertainment and lifestyle, log on to our website latestly.com).

