মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলা (Malegaon Blast Case) থেকে অবশেষে অব্যাহতি পেলেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সহ সাতজন। মূলত এই মামলায় তথ্যপ্রমাণের অভাবেই ১৭ বছর পর বেকসুর খালাস পেলেন তাঁরা। মুম্বইয়ে এনআইএ-র বিশেষ আলাদতে দীর্ঘদিন ধরেই এই মামলা শুনানি চলছিল। চলতি বছরের এপ্রিলে রায়দান স্থগিত রেখেছিল আদালত। অবশেষে এদিন রায় দেওয়ার সময় বিচারপতি বলেন, শুধুমাত্র সন্দেহে ভিত্তিতে কারোর শাস্তি হতে পারে না। কোনও তথ্যপ্রমাণ সন্দেহের উর্ধ্বে ছিল না। সেই কারণে গত বৃহস্পতিবার এই মামলায় বেকসুর খালাস পান অভিযুক্তরা।
তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে মন্তব্য সেলিমের
এই নিয়ে গতকাল থেকেই বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সিপিআইএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “ওঁরা তথ্যপ্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস হয়েছে। এটা একেবারেই কাম্য ছিল না। এর জন্য পুলিশ, তদন্তকারী সংস্থা, মামলাকারীদের আইনজীবী দায়ী। তাঁদের তদন্তপ্রক্রিয়া সঠিক ছিল না, সেই কারণে অভিযুক্তরা সাজা পেল না। এটা তাঁদের ব্যর্থতা। এরজন্য আদালতকে দোষ দিয়ে কোনও লাভ নেই। বিচারপতি তো তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই সাজা শোনাবে। কেন্দ্র ও দেশের শাসক দল বিজেপির ঘনিষ্ঠদের শাস্তি থেকে বাঁচানো হল”।
দেখুন মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য
#WATCH | On NIA Court acquitting all accused in the Malegaon blast case, CPI(M) West Bengal State Secretary, Md Salim says, "What acquittal? We have issued a statement. The Police, the investigative agency, the NIA, the prosecutors have failed to produce evidence...You remember… pic.twitter.com/ZdizCzWein
— ANI (@ANI) August 1, 2025
মালেগাঁও বিস্ফোরণকাণ্ড
প্রসঙ্গত, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে নাসিকের মালেগাঁও শহরে একটি মসজিদ লাগোয়া কবরস্থানে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে ৭ জনের মৃত্যু হয়। মহারাষ্ট্রের সন্ত্রাস দমন শাখা ঘটনার তদন্তে নেমে জানতে পারে দুটি বাইক বিস্ফোরণ মজুত ছিল। এই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন ১০০ জনেরও বেশি। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত একটি বাইকের নম্বর প্লেট ছিল সাধ্বী প্রজ্ঞার নামে। আর সেই কারণেই ঘটনার তদন্তে নেমে প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর (সাধ্বী প্রজ্ঞা), অবসরপ্রাপ্ত মেজর রমেশ উপাধ্যায়, প্রাক্তন সেনা আধিকারিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ শ্রীকান্ত পুরোহিত সহ ৭ জনের নাম উঠে আসে। এমনকী পরবর্তীকালে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। পরে অবশ্য জামিন পান তাঁরা। ২০১১ সালে এনআইএ-এর হাতে এই মামলার তদন্তভার যায়।