TMC MLA to Join BJP: উত্তরবঙ্গে বড় ভাঙন তৃণমূলে, দল ছেড়ে বিজেপিতে দিদির পছন্দের এই বিধায়ক, সঙ্গে ১৮ কাউন্সিলারও ফুল বদলের পথে
মমতা ব্য়ানার্জি, অমিত শাহ(Photo Credit: IANS)

কলকাতা, ২৪ জুন: নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং (Sunil Singh)-য়ের দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদানের ঠিক এক সপ্তাহ পর ফের বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল। এবার দক্ষিণ বঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গেও দিদির দুর্গে ধস শুরু হল। রাজ্যের দলবদলের পিচে তৃণমূলের আরও একটা উইকেট পড়তে চলেছে। লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে কার্যত মুছে যাওয়ার পর সেখান থেকে তৃণমূলের বড় ভাঙনের শুরু হল। আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি-র বিধায়ক উইলসন চম্পামারি (Wilson Champramary) তৃণমূলের রক্তক্ষরণ বাড়িয়ে বিজেপি-তে যোগদানের কথা নিজে মুখে জানালেন।

সঙ্গে দিদির এক সময়ের পছন্দের বিধায়ক উইলসন বললেন, তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের ১৮জন কাউন্সিলার বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।২০০৯ বিধানসভা উপনির্বাচনে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থনে প্রথমবার কালচিনি কেন্দ্রের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন উইলসন। ২০১১ বিধানসভায় তৃণমূল-গোর্খা জনমুক্তির সমর্থনে নির্দল প্রার্থী হয়ে তিনি জেতেন। ২০১৬ বিধানসভায় তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে তিনি বিজেপি-প্রার্থীকে ২ হাজার ভোটে হারিয়েছিলেন। উইলসনের বিজেপি-তে যোগদানে আলিপুরদুয়ারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে।

উইলসন চম্পামারি-র সঙ্গে ১৮জন কাউন্সিলারও আজ বিজেপিতে যোগ দিলেন। এদিকে, বালুরঘাটে তৃণমূলের জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রও খুব সম্ভবত আগামিকাল বিজেপিতে যোগদান করতে পারেন। বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে অর্পিতা ঘোষকে ফের টিকিট দেওয়ার মমতা ব্যানার্জির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন বিপ্লব মিত্র। আরও পড়ুন- এক মাস হয়ে গেল লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণার, রাজ্যের যে পাঁচটা ফলাফলের খবর সবাইকে চমকে দিয়েছিল

অর্পিতা-বিপ্লবকে একসঙ্গে ডেকে বৈঠক করেও লাভ হয়নি। বিজেপি প্রার্থীর কাছে অর্পিতা হেরে যান। আর হারের প্রধান কারণ যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অর্পিতার হারের সব দায় এসে পড়ে বিপ্লবের ওপর। দিদি চটে যান বালুরঘাটের জেলা সভাপতির ওপর। সুযোগ বুঝে বিজেপি-র প্রস্তাব ছিল জেলার দক্ষ সংগঠন বিপ্লবের কাছে। সূত্রের খবর বিপ্লবের বিজেপিতে যোগদান সময়ের অপেক্ষা। শুধু আলিপুরদুয়ার, বালুরঘাট নয় জলপাইগুড়ি, কোচবিহারেও তৃণমূলকে বড় ধাক্কা দিতে চলেছে বিজেপি, এমন জল্পনাও চলছে।

সুনীল সিংয়ের দল ছাড়ার একদিন আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেন বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। ভোটের ফল প্রকাশের পর মুকুল রায়ের পুত্র তথা বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশও বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। রাজ্য়ে বিধানসভায় বিজেপি-র শক্তি এখন ১৮-তে গিয়ে দাঁড়াল। যেখানে ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র মাত্র তিনটি বিধানসভা আসনে জিতেছিল। ক দিন দার্জিলিং, ভাটপাড়া সহ উপনির্বাচনে চারটি কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছিল। লোকসভা ভোটের সঙ্গে একই সময়ে হওয়া দার্জিলিং বিধানসভার উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী নীরজ জিম্বা। ভাটপাড়া আসন থেকে জিতেছিলেন অর্জুন সিংয়ের ছেলে পবন সিং। পাশাপাশি মালদার হবিবপুর আসনটিতে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী জোয়েল মুর্মু। এর সঙ্গে দলত্যাগীরা তো রয়েইছেন। লাভপুরের বিধায়ক মনীরুল ইসলাম বিজেপি-তে যোগ দিয়েও পরে স্থানীয় পদ্মশিবিরের কর্মীদের বাধায় ফিরে যান।

ভোটের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে রাজ্য়ের শাসক দলের ৩০ জন বিধায়ক যোগাযোগ রাখছেন। এখন দেখা যাচ্ছে মোদিজীর সেই দাবিটা ভিত্তিহীন নয়। মুকুল রায় হেসে বলছেন, সবে তো শুরু....তৃণমূলের ভাঙন কোথায় গিয়ে তামে সেটাই দেখার।