অস্ট্রেলিয়ায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে জিম্বাবোয়ের ইতিহাস, এই প্রথম ক্যাঙারুর দেশে জয় রাজাদের
Zimbabwe beat Australia. (Photo Credits; Twitter)

টাউন্সভিল, ৩ সেপ্টেম্বর: অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক জয় পেল জিম্বাবোয়ে। এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল আফ্রিকার এই গরীব দেশ। শনিবার টাউন্সভিলে ওয়ানডে সিরিজে তৃতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৩ উইকেটে হারাল জিম্বাবোয়ে। অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৪১ রান অল আউট করার পর, ৩৯ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে সেই রান তুলে নেয় রেগিস চাকাভা-র নেতৃত্বে খেলা আফ্রিকার এই দেশ। ওয়ানডে-তে এবার নিয়ে মোট তিনবার অস্ট্রেলিয়াকে হারাল জিম্বাবোয়ে।

১৯৮৩ ইংল্যান্ডে বিশ্বকপ, ২০১৪-দেশের মাটিতে জয়ের পর এবার ২০২২-এ অস্ট্রেলিয়ায় অজি বধ করল জিম্বাবোয়ে। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, গ্র্যান্ড ফ্লাওয়ার, হিথ স্ট্রিক-দের আমলে জিম্বাবোয়ে বিশ্বকাপে নিয়মিত ভাল ফল করত। কিন্তু জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের স্বর্ণযুগেও কখনও অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারেনি তারা। সেই অসাধ্যসাধনটাই করে দেখালেন দেশের হয়ে খেলা একেবারেই কম অর্থ রোজগার করা সিকান্দার রাজা, সিন উইলিয়ামস, রায়ান ব্রুল-রা। প্রতিপক্ষে যেখানে ডেভিড ওয়ার্নার, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মিচেল স্টার্কদের মত নামী ক্রিকেটাররা।

যে জিম্বাবোয়ের ক্রিকেটে বেশ কয়েক বছর ধরে পুরো অন্ধকার, অর্থ সঙ্কটে দেশ থেকে খেলাটাই উঠে যাওয়ার জোগাড়, ক্রিকেরটাররা হেঁটে হেঁটে ব্যাগ কাঁধে করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে আসেন। আগামী মাসেই অস্ট্রেলিয়ায় হতে চলেছে টি-২০ বিশ্বকাপ। তার আগে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে মহালজ্জা। তিন ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজ অস্ট্রেলিয়া ২-১ জিতলেও,শেষ ম্যাচে হারের পর অ্যারন ফিঞ্চরা এই সিরিজ ভুলতে চাইবেন। আরও পড়ুন- আজলা টমলজানোভিচের কাছে হেরে ইউএস ওপেন থেকে বিদায় সেরেনা উইলিয়ামসের

দেখুন টুইট

এদিন জিম্বাবোয়ের জয়ে নায়ক দলের ষষ্ঠ বোলার রায়ান ব্রুল। মাত্র ১৮টা বল করে ৫টা উইকেট নেন ব্রুল। ওয়ার্নার (৯৪) ও ম্যাক্সওয়েল (১৯) ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আর কোনো ব্যাটার দু অঙ্কেররান পাননি। ওয়ার্নার দলের ৬৬ শতাংশ রান করেন। ফিঞ্চ (৫) থেকে স্টিভ স্মিথ (১), আলেক্স কারি (৪) থেকে মার্কস স্টোয়নিস (৩) সবাই একসঙ্গে ব্যর্থ হন। আর যে টেলেন্ডাররা বারবার দলকে বাঁচান, এদিন সেটাও ব্রুলের স্পিনের সামনে মুখথুবড়ে পড়ে।

ডেভিড ওয়ার্নার ৯৪ রানের ইনিংস খেলা সত্ত্বেও শেষ পাঁচটা উইকেট মাত্র ১২ রানে হারিয়ে অজিরা মাত্র ১৪১ রানে অল আউট হয়ে গিয়েছিল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারালেও, অধিনায়ক চাকাভা (৭২ বলে ৩৭ অপরাজিত)-র ধৈর্যশীল ইনিংস দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেয়।