চুল শুকানো মাত্রই শুরু হয়ে যায় সেই ছোটখাটো লড়াই—চুল যেন ভেজা থেকে তাড়াতাড়ি আরামদায়কভাবে শুকিয়ে ওঠে, কিন্তু বেশি রুক্ষ যেন না হয়। ঘরোয়া নিয়মে গামছা ব্যবহার হয়। অন্যদিকে বাজারে নানা প্যাটার্নের তোয়ালে দারুণ নরম আর শোষণক্ষম। কিন্তু চুলের যত্নে কোনটা ভালো গামছা না তোয়ালে? গ্লোমি ভেজা চুল থেকে ফ্রিকশন কমিয়ে, চুল ভেজা অবস্থায় যত্নবান হওয়ার ক্ষেত্রে দু’টিরই আলাদা আলাদা চরিত্র আছে।
গামছা: প্রতিটি বাড়িতে গামছার ব্যপক প্রচলন।সামান্য রেশমির মিশ্রণ থাকে গামছার বুননে। ওটা তুলনামূলক পাতলা, তাই জল দ্রুত শোষণ করে, চুলে অতিরিক্ত ওজন পড়ে না। গামছা মাথায় বেঁধে রাখলে এয়ার ফ্লো ঠিকমত থাকে, ফলে বাজে গন্ধ হয় না। তবে পাতলা হওয়ায় একসঙ্গে প্রচুর ভেজা জল শোষণ করতে কিছু সময় লেগে যেতে পারে। এছাড়া যদি গামচা ভালোভাবে ধুয়ে না রাখা হয়, তাতে ব্যাকটেরিয়া জমতে পারে, যা ত্বক আর চুল উভয়ে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
তোয়ালে: বাজারি তোয়ালে সাধারণত ৬০০–৮০০ গ্রাম/মি² তুলোর তৈরি, বেশ মোটা, নরম আর বেশি জল শোষণক্ষম। বিশেষ করে মাইক্রোফাইবার তোয়ালে চারগুণ দ্রুত শুষে নেয়। চুলে ঘষে না দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে তোয়ালে বেঁধে রাখলে পুষ্টিকর তেল বেশি সময় ধরে মাথায় ধরে রাখা যায়। তবে মোটা তোয়ালে বেশি সময় জল ধরে রাখে, ফলে চুল কিছুটা ধীরগতিতে শুকায়। তোয়ালে ঘন হতে পারে, গন্ধ ধরতে পারে। সেক্ষেত্রে নিয়মিত ক্লিনার বা হাল্কা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধোয়া উচিৎ।
গামছা পাতলা হওয়ায় প্রথমে হালকা শোষণ; মাঝামাঝি ভেজা চুলে দ্রুত বায়ু চলাচল। তোয়ালে একবারে প্রচুর জল শুষে নেয়, শুকানোর দরকার কমে।
পাতলা গামছায় কম, মোটা তোয়ালে একটু বেশি। এর ফলে রুক্ষ চুলের সমস্যা জন্মাতে পারে।
নিয়মিত স্যানিটাইজড রাখলে গামচা বেশি নিরাপদ, তোয়ালে কিছুটা বেশি সংরক্ষণে খেয়াল চাই।
গামছা কম জায়গা নেয়, দ্রুত শুকায়; তোয়ালে তুলনায় জায়গা বেশি নেয়, ভেজা রাখতে গন্ধ বানাতে পারে।
যদি আপনি দ্রুত বাতাস চলাচল চান, কম ঘর্ষণ চান আর জায়গা কম চান, তবে গামছা বেশ কাজে দেবে। যদি চুলে বেশি জল জমে আর একবারেই শক্ত শোষণ চান, তাতে মাইক্রোফাইবার বা ভালো মানের তুলোর তোয়ালে বেনিফিট দেবে।