প্রায়শই টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখতে পাওয়া যায়, যেখানে একটা মেয়ের কেবল গাঢ় রঙের কারণে তার বিয়ে হয় না। এরপর তাকে একটি ক্রিম ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং তার গায়ের রং ফর্সা হয়ে যায়। অর্থাৎ ক্রিম ব্যবহারের পর মেয়েটির গায়ের রঙ দুধের মতো সাদা হয়ে যায় এবং বিয়েও হয়ে যায়। মানুষ এই ধরনের বিজ্ঞাপন দেখতে পছন্দ করেন, কিন্তু সত্যি কী একটি ক্রিম ব্যবহার করলে মুখের রং কালো থেকে ফর্সা হয়ে যেতে পারে? চলুন জেনে নেওয়া যাক ত্বক ফর্সা করার ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বক ফর্সা হতে পারে কিনা! ত্বক ফর্সা করার জন্য যেকোনও ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার করতে চাইলে প্রথমে জেনে নিন এটি কীভাবে কাজ করে।
ত্বক সাদা করার ক্রিমগুলিতে হাইড্রোকুইনোন, কোজিক অ্যাসিডের মতো উপাদান পাওয়া যায় যা মেলানিনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। মেলানিন হল সেই উপাদান, যার হ্রাস ত্বককে ফর্সা দেখায়, এর ফলে গায়ের রং ফর্সা হয় না, বরং মুখ সাদা হতে শুরু করে। অনেক ক্রিম হাইপারপিগমেন্টেশন, দাগ এবং ট্যানিং কমাতে সাহায্য করতে পারে, যার ফলে মুখ আরও পরিষ্কার দেখায়। অনেক ত্বক সাদা করার ক্রিম মুখ গভীরভাবে পরিষ্কার করে এবং ভেতর থেকে পরিষ্কার করে, যার কারণে ত্বকের রং হালকা হয়ে যায়।
বাজারে পাওয়া এই ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমগুলো প্রচুর পরিমাণে স্টেরয়েড, পারদ এবং হাইড্রোকুইনোন থাকে, যা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করলে ত্বকের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ত্বক ফর্সা করার জন্য যেকোনও ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়। যেকোনও ব্র্যান্ডের ক্রিম শুধুমাত্র এক টোন গভীরভাবে পরিষ্কার করে বা ত্বককে হালকা করতে পারে। কিন্তু জিনগতভাবে নির্ধারিত মুখের রং পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এর থেকে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করলে অনেক ভালো হবে। এর পাশাপাশি সানস্ক্রিন এবং ত্বকের যত্নের রুটিনের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি, যাতে ত্বক প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল হয়।