তীব্র গরমে যেকোনো পানীয় শরীরকে । এই সময় রাস্তায় বের হলেই শরবত খেতে ইচ্ছা করে। আর এক গ্লাস আখের রস পেলে তো আর কথাই নেই। একগ্লাস আখের রস পান করলে শরীররে আলাদা সতেজতা অনুভব হয়। তবে এই আখের রস খাওয়া কতটা স্বাস্থ্যসম্মত বা সকলেই খেতে পারবে কি না তা জেনে নেওয়া দরকার। এটি কি আসলে ভালো? হ্যাঁ, আখের রস অতিরিক্ত খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আখের রস। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এছাড়াও ফাইবার, খনিজ পদার্থ থাকে আখের রসে। আখের রসে আলফা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড এবং AHA থাকে। ফলে ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। যাদের ব্রণ রয়েছে এবং এই সমস্যায় ভুগছেন তারা আখের রস পান করলে উপকার পাবেন। পেট ফাঁপা এবং ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে দারুন কাজ দেয় আখের রস। হাইড্রেশনে সাহায্য করে। আখের রস হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অ্যাসিডিটির মতো হজমজনিত ব্যাধি প্রতিরোধ করে। আখের রসে থাকা পটাশিয়াম পাকস্থলীর pH স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা হজম রসের নিঃসরণকে সহজ করে তোলে। এছাড়াও, এটি একটি সুস্থ হজম ব্যবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
আখের রসে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা এর স্বাস্থ্য উপকারিতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। আখের রসের এক পরিবেশনে রয়েছে:
- ক্যালোরি: প্রতি ২৪০ মিলিতে প্রায় ১১১ ক্যালোরি।
- কার্বোহাইড্রেট: প্রায় ২৭ গ্রাম।
- প্রোটিন: মোটামুটি ০.২৭ গ্রাম।
- চর্বি: নগণ্য চর্বিযুক্ত উপাদান।
- ফাইবার: ন্যূনতম ফাইবার সামগ্রী।
- ভিটামিন: ভিটামিন B2 (রাইবোফ্লাভিন), B6, C এবং A রয়েছে।
- খনিজ পদার্থ: ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন এবং ম্যাঙ্গানিজ সমৃদ্ধ।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: পলিফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড।
তবে অতিরিক্ত আখের রস সেবন করলে শরীরে ক্ষতি হতে পারে। এক গ্লাস আখের রসে প্রায় ৫ থেকে ৭ চা চামচ চিনি থাকতে পারে। যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। শরীরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি যোগ করে। কিন্তু ওজন দ্রুত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে অতিরিক্ত আখের রস খেলে। তাই কোনভাবেই আখের রস প্রতিদিন এক গ্লাসে বেশি খাবেন না । তবে নিয়ম খেলে প্রতিদিন এক গ্লাস আখের রস খান। তবে প্রতিদিন না খেয়ে কয়েকদিন অন্তর অন্তর খাবেন।