ভাত হলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য খাদ্য, যা প্রায় প্রতিটি বাঙালি খাবারের তালিকায় প্রধান। তবে দিনের শেষে যখন রান্না করা ভাত বেঁচে যায়, তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়। অনেকেই এখন ভাত ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করেন। ফলে খাদ্যের সতেজতা বজায় থাকে।
ফ্রিজে রাখা ভাতের অন্যতম প্রধান উপকার হচ্ছে খাদ্যের সতেজতা। রান্না করা ভাত দ্রুত ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণুর শিকার হতে পারে। ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে এই জীবাণুদের বৃদ্ধিকে বাধা দেয়া হয় এবং ভাত দীর্ঘদিন তাজা থাকে। তাছাড়া, ফ্রিজে রাখা ভাত রেফ্রিজারেটরের তুলনায় আরও বেশি সময় ধরে নিরাপদে রাখা যায়, যা আমাদের খাবারের অপচয় রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
ভাতকে ঠান্ডাতে রেখে পরে সেই ভাত দিয়ে সহজে বিভিন্ন রেসিপি তৈরি করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, ফ্রিজ থেকে বের করা ভাত দিয়ে ফ্রাইড রাইস বা পোলাউ বানানো অনেক সহজ হয়ে যায়, কারণ ভাত আগে থেকেই সঠিকভাবে শুকিয়ে থাকে। ভাতের কণিকা যেন অতিরিক্ত সিক্ত না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য ফ্রিজিং পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। এতে করে ভাতের স্বাদ, গন্ধ ও গাঠনিক বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে ।
ভাত ফ্রিজে সংরক্ষণ করার আরেক প্রধান সুবিধা হলো, যখনই তাড়াতাড়ি কোনো খাবারের প্রয়োজন হয় তখন সহজেই তা গলিয়ে তৈরি করে খাওয়া যায়। বিশেষ করে কাজের ব্যস্ত সময়সূচীতে, আগে থেকে ফ্রিজে রেখে রাখা ভাত সহজে ব্যবহার করা যায়। এর ফলে রান্নার সময় বাঁচে আর অতিরিক্ত খরচও কম হয়, যা দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক সাশ্রয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
তবে, ভাত ফ্রিজে সংরক্ষণের সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। প্রথমেই, রান্না করার পর যত দ্রুত সম্ভব ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখা উচিত, যাতে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির সুযোগ না থাকে। ফ্রিজ থেকে বের করার পর পুনরায় যথাযথভাবে গরম করে খাওয়া উচিৎ। এছাড়াও, স্টোরেজের জন্য উপযুক্ত বায়ুরোধক কনটেইনার ব্যবহার করলে ভাতের স্বাদ ও গুণমান বজায় থাকে।