ব্ল্যাকহেডস একটি সাধারণ ত্বকের সমস্যা, যা মূলত নাক, কপাল ও থুতনির চারপাশে বেশি দেখা যায়। এটি ত্বকের রোমকূপে জমে থাকা তেল, মৃত কোষ ও ধুলোমাটি অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে কালো আকার ধারণ করলে ব্ল্যাকহেডস হয়। অনেকেই এর সমাধানে বাজারের দামি প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন, কিন্তু সেগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। তাই প্রাকৃতিক উপায়েই ব্ল্যাকহেডস দূর করা নিরাপদ ও কার্যকর।
বেসন ও দুধের মিশ্রণ ব্ল্যাকহেডস দূর করতে দারুণ কাজ করে। এক চামচ বেসনের সঙ্গে অল্প কাঁচা দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এটি ব্ল্যাকহেডসযুক্ত স্থানে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে হালকা হাতে ঘষে তুলে ফেলুন। এটি রোমকূপ পরিষ্কার করে ও মৃত কোষ দূর করে।
বেকিং সোডা ও জল ব্ল্যাকহেডস পরিষ্কারে খুবই কার্যকর। বেকিং সোডা প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে। এক চা চামচ বেকিং সোডা অল্প পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ব্ল্যাকহেডসের ওপর লাগিয়ে ৫-৭ মিনিট অপেক্ষা করুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন।
লেবু ও মধুর মিশ্রণ ব্ল্যাকহেডস কমাতে সাহায্য করে। লেবুতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যাসিড যা ত্বকের তেল নিঃসরণ কমায়, আর মধু জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। একটি পাতিলেবু কেটে তার ওপর মধু দিয়ে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যায়।
ভাপ নিলে রোমকূপ খুলে দেয়, ফলে ব্ল্যাকহেডস সহজে বের হয়ে আসে। ফুটন্ত জলে ভাপ মুখে ৫-১০ মিনিট দিলে ত্বক নরম হয়, তারপর নরম কাপড় দিয়ে ঘষলে ব্ল্যাকহেডস সহজেই উঠে আসে।
টমেটো রস ব্ল্যাকহেডস কমাতে সাহায্য করে। টমেটো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এবং প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিনজেন্ট হিসেবে কাজ করে। রাতে ঘুমানোর আগে ব্ল্যাকহেডসের জায়গায় টমেটো রস লাগিয়ে রেখে দিলে ধীরে ধীরে কমে যাবে।
ত্বক পরিষ্কার রাখা ও অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে রাখা। প্রতিদিন মুখ ধোয়া, তেলতেলে খাবার কম খাওয়া ও পর্যাপ্ত জল পান করলেই ব্ল্যাকহেডস হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়।