প্রতি বছর জুলাই মাসের তৃতীয় শুক্রবারে। এই দিনটি মূলত মানুষের মনোজগতে প্লাস্টিকব্যাগের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে উদ্দিষ্ট। প্লাস্টিকের ব্যবহার দৈনন্দিন জীবন ধারণকে সহজ করেছে, তবে এর কারণে পরিবেশ দূষণ, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতিসাধন বেড়েছে।

প্লাস্টিকব্যাগ সত্যিই এক অত্যন্ত শক্তিপ্রদায়ক পদার্থ। ব্যবহার শেষে যখন এগুলো ডাম্পিং এলাকায় ফেলা হয়, তখন সারা বছরই ভেঙে না গণ্ডগোল হয়। মাটি বা পানিতে মিশে থাকলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের আকারে ভাসতে থাকে। জলজ পরিবেশে এরা মাছ ও পাখির খাদ্যের সঙ্গে মিশে প্রাণীর স্বাভাবিক পুষ্টি গ্রহণ প্রক্রিয়া নষ্ট করে। স্থলভাগেও এসব প্লাস্টিকপদার্থ মাটির উর্বরতা কমিয়ে নাতিবিদ্যমান বিষাক্ত পদার্থ ছাড়ে।

ব্যক্তিগত জীবনে আমরা কী করতে পারি? প্রথমে জরুরি নয় এমন কেনাকাটায় প্লাস্টিকব্যাগ এড়িয়ে চলুন। বাজারে গেলে নিজের কাপড়ের ব্যাগ বা জুটের ব্যাগ নিয়ে যেতে পারেন। সুপারমার্কেটে গেলে ছোট বা বড় যেকোনো মালপত্র বহনে মাল্টি-ইউজ ব্যাগ ব্যবহার করুন। যদি কোনো কারণ বন্ধে প্লাস্টিকব্যাগ নিতে বাধ্য হন, তবে তা পুনর্ব্যবহার করুন। আগের ব্যাগ পরিষ্কার করে আবার ব্যবহার করুন, অথবা ছোট ব্যাগ করে কৃষ্ণচূড়া, শস্য বা লেগম দানা সংরক্ষণে কাজে লাগান।

সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের ভূমিকা অপরিসীম। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো পরিবেশ পরিষ্কার অভিযানে নামে, শহরের মূল রাস্তা ও পার্কে ব্যাগ সংগ্রহ করে। অনেক পৌরসভা নগর এলাকার রাস্তা-ঘাটে প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ বিধি জারি করেছে। স্কুল-কলেজে পরিবেশ ক্লাবে প্লাস্টিকের বিকল্প নিয়ে গবেষণা ও সার্টি-ওয়ার্কশপ করানো হয়। এই উদ্যোগগুলো সচেতনতা বাড়িয়ে দেয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন সম্ভব করে।

এদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্লাস্টিক ব্যাগ বর্জন করুন চ্যালেঞ্জের অংশ হন, আপনার বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন। স্কুল বা অফিসে উপস্থাপনা করে সহকর্মীদের প্লাস্টিকবিরোধী বার্তা পৌঁছে দিন। স্থানীয় দোকানদারদেরও জানান, আপনি প্লাস্টিকব্যাগ নিতে চান না—তার পরিবর্তে নিজের ব্যাগ নেবেন। ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো একত্রে বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে।

অবশেষে, এই দিনটি শুধু উদযাপন নয়, বরং আরেকবার মনে করিয়ে দেয় আমাদের দায়িত্বের কথা। স্মরণ রাখুন, পৃথিবী আমাদের একমাত্র বাসস্থান। প্লাস্টিকমুক্ত জীবনযাপন শুধু পরিবেশকে নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও সুস্থ রাখে। তাই আজই প্রতিজ্ঞা করুন—প্লাস্টিকব্যাগ বদলে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহার করবেন, সচেতনতার বাতিঘর প্রজ্জ্বলিত করবেন। আপনি একজন পরিবর্তনসঞ্চারী, এবং বিশ্ব আপনার ছোট্ট এই পদক্ষেপেই অনেক বড় উপকার পাবে।