তেঁতুল ফল হিসেবে পরিচিত। তবে অনেকেই জানেন না তেঁতুল পাতাও সমান উপকারী। গ্রামবাংলায় প্রাচীনকাল থেকে নানা ধরনের ঘরোয়া চিকিৎসায় তেঁতুল পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। এই পাতায় রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান যা শরীরের নানা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
জ্বর ও ঠান্ডা উপশমে: তেঁতুল পাতা জ্বরে শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তেতুল পাতার রস বা তাজা পাতা পানিতে সেদ্ধ করে খেলে শরীরের তাপমাত্রা কমে আসে এবং ঠান্ডা-সর্দিও উপশম হয়।
দাঁত ও মাড়ির যত্নে: তেঁতুল পাতার রস মাড়ি মজবুত করে ও দাঁতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেও এটি খুব কার্যকর।
ত্বকের সমস্যা দূর করতে: ব্রণ, চুলকানি বা চর্মরোগে তেতুল পাতার পেস্ট খুব উপকারী। অ্যান্টিসেপটিক গুণ থাকায় এটি ত্বকের ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে।
হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য: তেঁতুল পাতা হজম শক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক। পাতার রস খেলে পাচনতন্ত্র পরিষ্কার থাকে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: তেঁতুল পাতার নির্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে বলে ধারণা করা হয়।
তেঁতুল পাতা প্রাকৃতিক ও সাশ্রয়ী একটি উপাদান, যা অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। তাই এর উপকারিতা জানলে আর অবহেলা করবেন না—তেতুল পাতা হতে পারে আপনার ঘরোয়া ওষুধের চমৎকার এক উপায়!
তেঁতুল পাতা ব্যবহার করার সহজ উপায়
তেঁতুল পাতার উপকারিতা পেতে হলে সঠিকভাবে ব্যবহার করাও জরুরি। নিচে কিছু ঘরোয়া উপায়ে তেতুল পাতা ব্যবহারের পদ্ধতি জানানো হল
জ্বর বা ঠান্ডা হলে: এক মুঠো তাজা তেঁতুল পাতা এক কাপ জলে ১০ মিনিট সেদ্ধ করুন। এরপর ছেঁকে নিয়ে কুসুম গরম অবস্থায় পান করুন। দিনে ২ বার খেলে উপকার পাবেন।
ত্বকের জন্য: তেঁতুল পাতা বেটে পেস্ট তৈরি করুন। চুলকানি, ব্রণ বা চর্মরোগে আক্রান্ত স্থানে এই পেস্ট লাগান। ১৫-২০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন।
মাড়ি ও দাঁতের যত্নে: তেঁতুল পাতার রস দিয়ে কুলকুচি করুন। এটি মুখের দুর্গন্ধ দূর করে ও মাড়ি মজবুত করে।
হজমের সমস্যায়: শুকনো তেঁতুল পাতা গুঁড়ো করে প্রতিদিন আধা চা চামচ করে গরম জলে মিশিয়ে পান করুন। এতে হজম ভালো হয়।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: প্রতিদিন সকালে এক কাপ তেঁতুল পাতার সেদ্ধ জল খালি পেটে পান করলে উপকার মেলে।
তবে কোনো অসুখে নিয়মিত ব্যবহার শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।