ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে গাঁটে ব্যথা, গাঁটে বুকো, কিডনি স্টোন–সহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাস ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত নিচের খাবারগুলি খেলে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড বের করে দিতে সাহায্য পায়।

প্রথমেই উল্লেখ করতে হবে জল। প্রতিদিন কমপক্ষে দেড় থেকে দুই লিটার পর্যন্ত পরিষ্কার জল খেলে রক্তে জমে থাকা ইউরিক এসিড কিডনির মাধ্যমে সহজে বের হয়ে যায়। সঙ্গে দিনে এক–দু বার লেবু জল খেতে পারেন; লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড ইউরিক এসিড ভেঙে ক্ষারীয় বর্জ্যে রূপান্তর করে দেয়।

মূত্রজাত অ্যাসিড কমাতে সহায়ক খাদ্যে আছে কম পিউরিনের সবজি যেমন কুমড়ো, লাউ, কাঁচা পেঁপে ও শশা। এই সবজিগুলির জলীয় উপাদান এবং ফাইবার কিডনিকে ডিটক্সিফাই করে। শাকসবজির মধ্যে ব্রকোলি ও পাতা কপি বেছে নিন; এগুলোতে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে, যা ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

ফল দিয়ে শরীরের অতিরিক্ত অ্যাসিড কমানো খুব জরুরি। চেরি, স্ট্রবেরি, এবং ব্লুবেরির মতো বে-রঙা ফলে অ্যান্টি-সায়ানিন ও কিউয়ারসেটিন থাকে, যা ইউরিক এসিড হ্রাস করে গাঁটের ব্যথা কমায়। ডালিম ও আপেলেও ফাইবার ও ভিটামিন সি অতিরিক্ত মাত্রায় থাকে, যা লিভার–কিডনির কাজ সহজ করে।

পুরো শস্য জাতীয় খাবার—বিশেষত ওটস, বাদামী চাল ও জোয়ার—কম পিউরিন ও উচ্চ ফাইবারযুক্ত; এগুলো ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়িয়ে ইউরিক এসিড কমায়। প্রোটিনের ক্ষতি পূরণে চর্বিহীন দুধ ও দই ভাল বিকল্প।‌

বাদাম ও বীজের মধ্যে আখরোট, বাদাম, কুমড়োর বীজে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা শরীরের অ্যাভারঅল ইনফ্লামেশন কমিয়ে গাঁট ব্যথার উপশম আনে। তবে সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত, কারণ কালোরি উচ্চ।

অতিরিক্ত লাল মাংস, অর্গান মিট, ডানা-ওয়ালা মাছ (সার্ডিন, অ্যাঙ্কোভি), খাদ্যভিত্তিক অ্যালকোহল ও মিষ্টি কোমল পানীয়। এগুলোতে পিউরিন ও ফ্রুক্টোজ উচ্চ, যা ইউরিক এসিড দ্রুত বাড়ায়। এগুলি খাবেন না।